বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৩৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ:
ইয়েমেনে অপুষ্টিতে লাখো শিশু মৃত্যু ঝুঁকিতে বাংলাদেশ এবং তুরস্কের সম্পর্ক আত্মিক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাশ্মিরিদের ঘরে বন্দী রেখেই এবার ভারতীয়দের জমি কেনার অনুমতি দিলেন মোদি ঢাকায় ফ্রান্স সরকারের বিরুদ্ধে বিশাল মিছিল, দূতাবাস ঘেরাও আটকাল পুলিশ ম্যাক্রোঁকে সমর্থন করছে ভারতীয়রা আগাম ভোটের সংখ্যা ১০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সামরিক চুক্তি আঞ্চলিক শান্তির প্রতি হুমকি: পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি ৩১ বাংলাদেশীসহ ৩৮ অবৈধ অভিবাসী আটক মালয়েশিয়ায় মালয়েশিয়ায় জরুরি অবস্থা জারির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান রাজার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে এক কিশোরকে হত্যার অভিযোগ

অন্ধকার গ্রহ

আশিকুল ইসলাম অয়ন
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২০

সামনের কাল গ্রহটির দিকে তাকিয়ে অবাক না হয়ে পারলাম না। গভীর অন্ধকারে ছেয়ে আছে গ্রহটি। গ্রহটি কোন নক্ষত্র নেই। তাই গ্রহটি এক জায়গায় স্থির হয়ে দাড়িয়ে আছে। তার আশেপাশে অন্য কোন গ্রহ নেই। অন্ধকার এই গ্রহে কোন ধরণের বুদ্ধিমান প্রাণী থাকতে পারে তা আর বুঝে পেলাম না।
এই গ্রহটি থেকে আমাদের গ্রহ অর্থাৎ মঙ্গল গ্রহ এর মধ্যে দূরত্ব প্রায় ১২ হাজার আলোকবর্ষ। প্রায় অনেকটা দূর, কিন্তু বর্তমান এই দূরত্বটা মানুষরা তাদের বুদ্ধিমত্তার কারণে একটু কমিয়ে আনতে পেরেছে।
আজ থেকে কয়েকশ বছর আগেও মানুষ পৃথিবী নামে গ্রহটিতে থাকত। কিন্তু বর্তমানে তা আর সম্ভব না। পৃথিবী বর্তমানে বসবাস করার মত অবস্থায় নেই। তাই মানুষকে মঙ্গলকেই তার বাসস্থান হিসেবে তার বাসস্থান হিসেবে তৈরি করতে হয়েছে।
কাল গ্রহটির (যার নাম মঙ্গলের মানুষরা দিয়েছে এএস-৩২) মধ্যে আমাদের যাবার মূল কারণ হচ্ছে, গত এক মাস ধরে কাল গ্রহটি (এএস-৩২) থেকে মঙ্গলে প্রায়ই কিছু রেডিও সিগনাল আসছে। এর কারণটা মঙ্গলের বিজ্ঞানীরা বের করতে পারছে না। তারা ধারণা করছে যে, এটি কোন বুদ্ধিমান প্রাণীর কাজ হতে পারে। যাকে সাধারণ মানুষেরা নাম দিয়েছে এলিয়েন। এই সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা কিছু না জানতে পারার কারণে আমাকে আর আমার সাথে আরও ১১ জনকে এই বিশাল মহাকাশযানটিকে নিয়ে এই কাল গ্রহটির ( এএস-৩২) মধ্যে যেতে হচ্ছে। জানি না গ্রহটির মধ্যে যাবার পর আমাদের কিসের সম্মুখীন হতে হবে।
মঙ্গল গ্রহ থেকে এই গ্রহটিতে (এএস-৩২) যাবার পথটুকু আমাদের জন্য খুবই আরামদায়ক ছিল। কারণ এই বিশাল মহাকাশযানটিকে শুধু মাত্র একটি কোয়ান্টাম কম্পিউটার চালাচ্ছে। আমাদের কাজ হচ্ছে শুধু কিছু তথ্য ঠিক আছে কিনা তা দেখা, মঙ্গল গ্রহে এখানের সকল তথ্য দেওয়া, সবকিছু সচল আছে কিনা তা দেখা আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে কাল গ্রহটিতে (এএস-৩২) যাবার পর যদি কোন বুদ্ধিমান প্রাণী থেকে থাকে তাহলে তাদের সাথে যোগাযোগ করা। আমাদের কাজ এইটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এখন বর্তমানে মানুষের বেশিরভাগ কাজ প্রযুক্তি দ¦ারা করা হয়।
তখনই হঠাৎ রুহা আমার কাছে এসে বলল,
“ আমরা এএস-৩২ এর খুব কাছে এসে পরেছে। আমাদের মহাকাশযানটি এএস-৩২ এর বায়ুমÐলের খুব কাছে অবস্থান করছে। আমরা এখন কোয়ান্টাম কম্পিউটারকে কী নির্দেশ দিব? ”
আমি বললাম,
“ এএস-৩২ এর যে জায়গাটি থেকে মঙ্গল গ্রহে রেডিং সিগনালটি পাঠানো হচ্ছে সেই জায়গা থেকে ১ কিলোমিটা পূর্ব-পশ্চিমে আমাদের মহাকাশযানটিতে নামাবার নির্দেশ দাও কোয়ান্টাম কম্পিউটারকে। ”
আমার কথা শুনার পর রুহা চলে গেল। এখন সবকিছুর উপরেই মানুষ প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে। নিজের থেকেও মানুষ এখন প্রযুক্তির উপর বিশ^াস করে।
১৫ মিনিটের মধ্যে মহাকাশযানটি এএস-৩২ এর ভ‚মিতে পৌছে যায়। আমরা মহাকাশযানটি থেকে বের হয়ে শুধু অন্ধকারই দেখতে পেলাম। বাকি এক কিলোমিটার আমাদের ছোট গাড়িতে করে যেতে হবে। গাড়িতে উঠে আমরা রেড়িও সিগনালটির দিকে যেতে লাগলাম। আমাদের শরীরে ভারি স্পেইস স্যুট। আর হাতে অস্ত্র।
যখন আমরা রেডিও সিগনাল থেকে কয়েক মিটার দূরে তখনই আমরা দূরে কিছু একটা দেখতে পেলাম। য়ুহা বলল,
“ জিনিসটা দেখতে অনেকটা আমাদের মহাকাশযানের মত।”
আমারও তাই মনে হচ্ছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর যখন আমরা জিনিসটার কাছে গেলাম তখন আমরা অবাক হয়ে দেখলাম যে, এইটা মানুষদের তৈরি মহাকাশযান!
কিছুক্ষণ পর মহাকাশযানটির মূল প্রবেশ পথ খোলা শুরু করল। আমরা আমাদের অস্ত্রগুলো নিয়ে তৈরি হয়ে থাকলাম যেকোন কিছুর মুখোমুখি হবার জন্য। মহাকাশযানটির ভেতরেও অন্ধকার ছেয়ে আছে। যখন প্রবেশ পথটা পুরোপুরি খুলে গেল তখন আমরা অবাক হয়ে দেখলাম যে, মহাকাশযানটির ভেতর থেকে মানুষ বের হয়ে আসছে!
তারপর যা হল তা হচ্ছে, আমরা সেই মহাকাশযানটিতে থাকা সকল মানুষদের আমাদের মহাকাশযানে নিয়ে আসলাম। তারা সেই মানুষ যারা দুই মাস আগে পুরো একটি মহাকাশযান নিয়ে উধাও হয়ে গিয়েছিল। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই হচ্ছে বিজ্ঞানী। সেই মহাকাশযানটি আসলে গবেষণার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
মহাকাশযানটিতে কিছু সমস্যা হওয়ায় তাদের সবাইকে এই কাল গ্রহটিতে যেতে হয়েছিল। তারা কোন রকমভাবে বেচে গেছে ঠিকই, কিন্তু কোয়ান্টাম কমিউটার একেবারে অচল হয়ে গিয়েছিল। তাই তারা কোন রকমভাবেই এই গ্রহটি থেকে বের হতে পারছিল না। শেষে তারা সবাই মিলে মহাশযানটিতে থাকা জিনিসদিয়ে রেডিও সিগনাল পাঠাবার মত কিছু একটা তৈরি করে ফেলে। যার ফলে আমরা এখানে আসি। আর আমরা না আসলে তারা আর মাত্র এক সপ্তাহ বেচে থাকতে পারত। কারণ তাদের খাবার প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল।
এক ঘণ্টার মধ্যে আমাদের মহাকাশযানটি মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশ্য রওনা হল। আমি আমরা রুমের কাচের জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে ভাবতে থাকি যে, এখনও প্রযুক্তির উপর নির্ভর করবার মত সময় আসে নি। আর মনে হয় আসবেও না।

পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এইরকম আরো খবর দেখুন

© All rights reserved © 2020- SottoSamachar.Com || মানুষের সাথে, মানুষের পাশে।

Search Results

Web result with site link

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102