বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১২:১১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ:
হযরত মুসা (আ:)-এর স্মৃতি বিজরিত সেই কূপ ও বাড়ি এখনো টিকে আছে সৌদি আরবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা অনুশীলন অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সসহ সদর উপজেলায় ১২ জন শনাক্ত যুক্তরাষ্ট্রের কোলে আশ্রয় নিতে ছুটছে ভারত, পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে চীন বিশ্বকে অবশ্যই ‘গণতান্ত্রিক’ মিয়ানমারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে বাড্ডায় জবাই করা যুবকের মরদেহ উদ্ধার করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তার মৃত্যু ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিশ্ব এন্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ রাজধানীতে প্রেমিকের সঙ্গে অভিমানে প্রেমিকার আত্মহত্যা

আইনের বাতিঘর ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আর নেই

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০
আইনের বাতিঘর ব্যারিস্টার রফিক

আইনের বাতিঘর ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আর নেই:

আইনের বাতিঘর ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আর আমাদের মাঝে নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।

দেশের বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও সাবেক অ্যাটনি জেরারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল হক গত ১৫ অক্টোবর থেকে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা নিয়ে রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রথম দিকে তাকে কেবিনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অবস্থা কিছুটা জটিল হওয়ায় তাকে হাই ডিপেনডেন্সি কেয়ার ইউনিটে (এইচডিইউ) ভর্তি করা হয়।

গত ২০ অক্টোবর তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে তাকে দ্রুত লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। ঐ সময় তার ব্লাড প্রেশার ও অক্সিজের স্যাচুরেশন কমে যায়। এতে তিনি শকে চলে যান।

এরপর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিত ইয়াসমিন শুক্রবার জানিয়েছিলেন যে, স্যারের রক্তের পরীক্ষা নিরীক্ষাগুলো করা হয়েছে। কিন্তু তাতে খুব একটা উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। উনারা সবাই স্যারকে দেখেছেন। তারাও বলেছেন, স্যারের অবস্থা সংকটাপন্ন। আমাদের আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করা ছাড়া আর কিছু করার নেই। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের জন্ম ১৯৭৫ সালের ২রা নভেম্বর কলকাতার সুবর্ণপুর গ্রামে। ১৯৫৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, ১৯৫৭ সালে দর্শন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ১৯৫৮ সালে এলএলবি পাস করেন। ১৯৬২ সালে যুক্তরাজ্য থেকে বার এট ল সম্পন্ন করেন। ১৯৬৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে এবং ১৯৭৩ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে আইন পেশা শুরু করেন। বর্ণাঢ্য জীবনে আইন পেশায় দীর্ঘ প্রায় ৬০ বছর পার করেছেন।

আরও পড়ুনঃ অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া শিশুটি না ফেরার দেশে চলে গেল

বিগত সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়খ সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে অকুতোভয় আইনি লড়াই করেন তিনি। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় বরাবরই সোচ্চার রফিক-উল হক। দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনি বিষয় নিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করেছেন বর্ষীয়ান এই আইনজীবী।

১৯৯০ সালের ৭ই এপ্রিল থেকে ১৭ই ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রফিক-উল হক। কিন্তু কোনো সম্মানী নেননি। পেশাগত জীনবে তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দল করেননি। তবে , নানা সময়ে রাজনীতিবিদরা সবসময় তাঁকে পাশে পেয়েছেন। রাজনীতিবিদদের সম্মান সবসময় অর্জন করেছেন তিনি।

ব্যারিস্টার রফিক-উল হক তাঁর জীবনের উপার্জিত অর্থের প্রায় সবই ব্যয় করেছেন মানুষের কল্যাণ ও সমাজসেবায়। আর তার এই উদ্যোগকে বিরল বলে আখ্যায়িত করেছেন আইন অঙ্গনে তার সমসাময়িকরা।

প্রখ্যাত আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণমাধ্যমে পাঠানো আলাদা শোকবার্তায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন তারা।

শোকবার্তায় প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ প্রবীণ আইনজীবী রফিক-উল হকের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃতুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যুতে আইন অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার মৃততে গভীর শোক প্রকাশ করেছে প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। এছাড়া সিনিয়র আইনজীবীরাও গভীর শোক প্রকাশ করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তারা বলেন, আইন ও বিচারাঙ্গনে তার শূণ্যতা পূরণ হবার নয়।

এখানে উল্লেখ্য যে, আজ বিকালে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক।

আরও পড়ুনঃ পুলিশ আতঙ্কে ভবন থেকে পড়ে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃৃত্যু

পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এইরকম আরো খবর দেখুন

© All rights reserved © 2020- SottoSamachar.Com || মানুষের সাথে, মানুষের পাশে।

Search Results

Web result with site link

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102