মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন

করোনা উপসর্গ থাকায়, বেসরকারি ক্লিনিক তাড়িয়ে দিলেন, সিজার করলেন সরকারি চিকিৎসক

মো. আজহার উদ্দিন
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০
মো. আজহার উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি।।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে যখন রোগীদের চিকিৎসা করতে চিকিৎসকদের অনীহা, ঠিক এমন সময়ে করোনা উপসর্গ থাকা এক প্রসূতির সিজার করলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎসকরা।
সোমবার (১৩ জুলাই, ২০২০) দুপুরে ব্রাহ্মণবারিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে জেলার নবীনগর উপজেলার কাইতলা উত্তর ইউনিয়নের নারুই গ্রামের বেলাল মিয়ার স্ত্রী হাসিনা আক্তারের (৩৫) সিজার সম্পন্ন হয়।
এর আগে ওই প্রসূতির করোনার উপসর্গ থাকায় ওই রোগীর চিকিৎসা না দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন একটি বেসরকারি ক্লিনিক।
পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট  জেনারেল হাসপাতালে ওই প্রসূতির সিজার করেন গাইনি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাহফিদা আক্তার হ্যাপী।
এসময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ফৌজিয়া আখতার সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।এনেস্থেশিয়া দিয়ে সহযোগিতা করেন ডা. নুরুল আমিন পিয়াল।
রোগীর স্বামী মোঃ বেলাল মিয়া বলেন, গত ১১ জুলাই ২০২০ এ আশংকাজনক অবস্থায় শহরের পুরাতন জেল রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ওই রোগীকে নিয়ে আসা হলে তারা চিকিৎসার দায়িত্ব না নিয়ে উল্টো তাড়িয়ে দেয়। এরপর উপায়ান্তর না দেখে ওই রোগীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তাকে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর দুই দিন চিকিৎসা দিয়ে সোমবার দুপুরে তাকে সিজার করা হয়।
ওই প্রসূতির জ্বর, ঠান্ডা, কাশি ও শ্বাস কষ্ট ছিল উল্লেখ করে তার স্বামী মোঃ বেলাল মিয়া বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল
হাসপাতালে ভর্তি না নিলে হয়তো রোগীকে বাঁচানো যেতো না। তারা করোনার এই সংকটকালে আমার স্ত্রীর সিজার করে সত্যিকারের মহান চিকিৎসকের পরিচয় দিয়েছেন।তাদের এই সেবার কথা আমার সারাজীবন মনে থাকবে।
ব্রাহ্মণবারিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সমন্বয়ক ডা. ফৌজিয়া আখতার জানান, ওই প্রসূতি একজন ছেলে শিশু জন্ম দিয়েছেন। বর্তমানে মা ও শিশুকে ওই বিভাগের একটি আইসোলেশন কক্ষে রাখা হয়েছে। ওই কক্ষে স্মৃতি রাণী বিশ্বাস নামের একজন সেবিকা তাদের দেখাশুনা করছেন।
জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শওকত হোসেন বলেন, মা ও শিশুর কাছ থেকে করোনার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদেরকে চিকিৎসা দেয়া চিকিৎসক ও সেবিকাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এইরকম আরো খবর দেখুন

© All rights reserved © 2020- SottoSamachar.Com || মানুষের সাথে, মানুষের পাশে।

Search Results

Web result with site link

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102