শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০১:০১ পূর্বাহ্ন

গান্ধীর সেই ঐতিহাসিক চশমাটি নিলামে বিক্রি !

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২০

প্রায় ৫০ বছর ধরে পড়ে ছিল ভারতের স্বাধীনতার নেতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর এক জোড়া চশমা। যুক্তরাজ্যের এক জন বাসিন্দার বাসার ড্রায়ারে রাখা ছিল এই চশমা জোড়াটি। ঐতিহাসিক সেই চশমা জোড়া অবশেষে নিলামে বিক্রি করা হয়েছে, যার মূল্য ওঠেছে আড়াই কোটি টাকা (২ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড)এর বেশি।

স্থানীয় সময় শুক্রবার ৬ মিনিটের টেলিফোন নিলামে আমেরিকান একজন সংগ্রাহক চশমা জোড়া এই মূল্য কিনে নেন। নিলামকারী অ্যান্ড্র স্টো বলেছেন, ইস্ট ব্রিস্টল অকশন হাউজের জন্য এইটা একটা রেকর্ড।

প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, এই চশমা জোড়া হয়তবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার পাউন্ডে (১৫ লাখ টাকারও বেশি) বিক্রি হতে পারে। কিন্তু সেইটির দাম যে এতো বেশি হবে, তা ভাবতে পারেননি বিক্রেতা।

যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা অ্যান্ড্র স্টো বলেছেন, গান্ধীর চশমা জোড়ার মালিক ছিলেন ব্রিটেনের ম্যাঙ্গোসফিল্ড এলাকার একজন বয়স্ক ব্যক্তি। তার বাসার একটি ড্রয়ারে ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চশমা জোড়া পড়ে ছিল। লকডাউনের সময় সেই ব্যক্তি বাসা পরিস্কার করতে গিয়ে চশমা জোড়া খুঁজে পান।

ব্রিটেনের ওই ব্যক্তির একজন আত্মীয় ১৯২০ এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকায় মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর সঙ্গে দেখা করার পর থেকে কয়েক প্রজন্ম ধরে চশমা জোড়া এই পরিবারে রয়েছে। এখানে উল্লেখ্য যে, নিজের জিনিস পত্র বিলিয়ে দেওয়ার খ্যাতি রয়েছে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর।

চশমা জোড়া খুঁজে পাওয়ার পর এর মালিক নিলাম করার জন্য অ্যান্ড্র স্টো নিলাম প্রতিষ্ঠানকে দেন। কারণ তিনি চেয়েছিলেন, চশমা জোড়া এমন কেউ কিনুক, যিনি এর ঐতিহাসিক মূল্য বুঝবেন। কিন্তু তিনি কল্পনাও করেননি যে, এর দাম এত উঠতে পারে।

নিলামকারী অ্যান্ড্র স্টো বলেছেন, এটা ব্যতিক্রমী একটা ফলাফল। এই চশমা জোড়া শুধু আমাদের জন্য বিক্রির রেকর্ড তৈরি করেনি, এটার আন্তর্জাতিক ঐতিহাসিক গুরুত্বও তুলে ধরেছে। সাদা একটি এনভেলপের ভেতর ঢোকানো চশমা জোড়া ইস্ট ব্রিস্টল নিলাম হাউজের চিঠিপত্রের বাক্সে শুক্রবার রাত থেকে পড়ে ছিল।

তিনি বলেন, এর দাম সম্পর্কে মালিকের কোনো প্রকার ধারণা ছিল না। যখন তাকে বলা হয় যে, এটার মূল্য হয়তো ১৫ হাজার পাউন্ড হতে পারে, তখন তার প্রায় একটা হার্ট অ্যাটাক হতে যাচ্ছিল।

পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে এই চশমা জোড়া ড্রয়ারে পড়ে ছিল। এর মালিক আমাকে বলেছিলেন, এটা যদি বিক্রি করা না যায়, তাহলে যেন ফেলে দেওয়া হয়। আর এখন তিনি জীবণ বদলানোর মত টাকা পাচ্ছেন। নিলাম থেকে পাওয়া টাকা মেয়ের সাথে ভাগাভাগি করে নেবেন বলে জানিয়েছেন চশমা জোড়ার বিক্রেতা। সূক্র: বিবিসি

পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এইরকম আরো খবর দেখুন

© All rights reserved © 2020- SottoSamachar.Com || মানুষের সাথে, মানুষের পাশে।

Search Results

Web result with site link

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102