সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১২:২৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ:

চিনে বিউবোনিক প্লেগে মৃত্যু, গোটা গ্রাম লকডাউন !

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২০

মহামারি করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি চিন থেকে, যেই ভাইরাসে গোটা বিশ্বের জনগণ নাজেহাল। এবার এই চিনেই আবার নতুন একটি রোগ দেখা ‍দিয়েছে। করোনা ভাইরাসের মহামারির মধ্যেই গত কিছু দিন আগে ধরা পড়ে বিউবোনিক ভাইরাস। করোনা ভাইরাসের মতোই মানুষ থেকে মানুষের শরীরে সংক্রামিত হতে পারে এই ভাইরাস। এই ভাইরাসটির নাম হল বিউবোনিক প্লেগ (bubonic plague)। বিউবোনিক প্লেগ ধরা পরার পর পরই চিনের গোটা গ্রাম লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে।

চিনের উত্তরাঞ্চলের ইন্নার মঙ্গোলিয়া এলাকার একটি গ্রাম লকডাউন করে দিয়েছে সেখানকার স্থানীয় প্রশাসন। বিউবোনকি প্লেগে আক্রান্ত এক ব্যক্তির মৃত্যু পরেই সতর্কতা হিসেবে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে স্থানীয় প্রশাসন। সিএনএন এর সূত্রে খবর, চিনের ইন্নার মঙ্গোলিয়া এলাকার সুজি জিনকার গ্রামে গত বৃহস্পতিবার এক ব্যক্তি এই ভাইরাসে মারা গিয়েছে। মৃত্যুর আগেই ধরা পড়ে ওই ব্যক্তি বিউবোনিক প্লেগে আক্রান্ত।

সেখানকার স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গ্রামটি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। মৃত ব্যক্তির বাড়ি সহ এর চারপালে সকল এলাকা জীবাণুমুক্ত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। মৃত পরিবারের ৯ জন সদস্যকে কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে। গত কয়েকদিন ওই পরিবারের সংস্পর্শে যারা এসেছেন, তাদেরও খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত ওই গ্রামে আর কারও বিউবোনিক প্লেগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ওই পরিবারের ৯ সদস্য ছাড়াও এর মধ্যে বেশ কয়েক জনের পরীক্ষা করা হয়েছে।

চিনের গ্লোবাল টাইমস এই বিষয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বিউবোনিক ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ঝেজিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অফ মেডিসিনের অনুমোদিত হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিভাগের পরিচালক শেং জিফাং জানিয়েছেন, ভাইরাসটি সংক্রামিত প্রাণী বা মানুষের থেকে অন্যর শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। রক্তের মাধ্যমে, শ্বাসনালী ও যেকোনো ক্ষত দিয়েও এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।

শেং জিফাং আরও বলেন, তিন বছর আগে বিউবোনিক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এক রোগী। ওই রোগীর মাধ্যমে ১৬ জন মানুষ আক্রান্ত হন। ওই ১৬ জনই আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে ছিলেন। ১৬ জনের ১ জন আবার বিউবোনিক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান। তিনি জানান, এই ভাইরাসটির বাহক হল এঁটেল পোকা যা উড়তে পারে না। তাই ওই অঞ্চল এড়িয়ে চলাটাই সবার জন্য নিরাপদ।

গ্লোবাল টাইমস এই রোগকে নতুন রোগ বলে দাবি করলেও, বিভিন্ন গবেষণা ঘেটে জানা যাচ্ছে, অন্তত ২০১০ সাল থেকেই চিনের বিভিন্ন জায়গায় এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা দেখা দিয়েছে। গত বছরই ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছিল, ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে চিনে মোট ৫ হাজার ৩৬০ টি এসএফটিএস-এর কেস গবেষণাগারে নিশ্চিত করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে বিউবোনিক প্লেগ রোগের শিকার হয় ৪০ বছর থেকে ৮০ বছর বয়সী ব্যক্তিরা। সূত্র: গ্লোবাল টাইমস

পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এইরকম আরো খবর দেখুন

© All rights reserved © 2020- SottoSamachar.Com || মানুষের সাথে, মানুষের পাশে।

Search Results

Web result with site link

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102