রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন

ঝালকাঠিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন !

আতাউর রহমান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি।।
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২০

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদী থেকে কিছু অসাধু প্রভাবশালীরা ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর বিভিন্ন স্পট থেকে বালু উত্তোলন করতেছে, এর ফলে পৌর-এলাকাসহ কিস্তাকাঠি,দিয়াকুলসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ হুমকির মুখে। যে কোন সময় নদীর মধ্যে ভেঙ্গে যেতে পারে তাদের বাড়ি ঘর। নদীর ভাঙনের ফলে অনেকের বাড়ি ছেঁড়ে অন্যত্র চলে গেছে। প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০টি জাহাজে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতিদিন লঞ্জঘাট ও মোহনার মাঝ খানে ৪/৫টি লোড ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চলমান রয়েছে। গত কয়েক মাস আগে ঝালকাঠির সাবেক এনডিসি মোঃ বশির গাজী কয়েকবার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জেল জরিমান করায় কিছু দিন নদী শান্ত ছিল। এরপর তিনি বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার পর আবার শুরু করেছে তাদের অবৈধ ব্যবসা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার বালু বিক্রি করছে কতিপয় সেন্ডিকেট নেতারা। আর এই টাকার ভাগ সমহারে ভোগ করছেন প্রশাসনের কয়েকটি দপ্তর! তারা সপ্তাহে, মাসিক হারে ও এক কালীন টাকা দিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করে অনবরত চালিয়ে যাচ্ছে এই অবৈধ বালু উত্তোলন। এইভাবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ঝালকাঠি শহর রক্ষা বাধ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে ঝালকাঠি শহর।

২০১০ সালে বালু উওোলন নীতিমালায় যন্ত্রচালিত মেশিন দিয়ে ড্রেজিং পদ্ধতিতে নদীর তলদেশ থেকে বালু উওোলন করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে! অথচ এক্ষেএে বালু দস্যুরা সরকারি আইন অমান্য করে অনবরত ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উওোলন করছে !

গত দু’দিন আগে ঝালকাঠির নলছিটিতে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের দায়ে দুটি ড্রেজার সহ দশজনকে আটক কেরে এক মাসের কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদলত। নলছিটি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাখাওয়াত হোসেন নদীতে অভিযান পরিচালনা করেন।

দুঃখের বিষয় ঝালকাঠিতে কেন মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছেনা ? এর পিছনে রহস্য কি জানতে চায় এলাকার সচেতন মহল সহ বিভিন্ন সংগঠনের ব্যক্তিরা।
এই ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ড্রেজার মালিক জানায়, তারা প্রতি ফুট বালুর দাম ৫০ পয়সা হারে দিয়ে থাকেন। এক বোর্ড বালু বোঝাই করে নিলে দুই হাজার ফুট বা বড় বোর্ড হলে তিন হাজার বা চার হাজার ফুট বহন করা হয়। অর্থাৎ ১ হাজার ফুট বালু নদী থেকে নিলে সিন্ডিকেটের কাছে ৫শ টাকা হারে দিয়ে নিতে হয়। তাহলে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ফুটের জাহাজে ৪০ বার নেওয়া হলে ৮০ হাজার ফুট বালু উত্তোলন করা হয়। তাতে ৫০ পয়সা হিসাবে ৪০ হাজার টাকা প্রতিদিন ইনকাম হয়। তাহলে মাসে কত টাকা আসে আপনারাই বলুন?

এভাবে পরিকল্পনাহীন ভাবে যেখানে-সেখানে বালু উওোলন করায় পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে ! ড্রেজিং পদ্ধতিতে বালু উওোলন করায় পুরো বর্ষা মৌসুমে বসত ভিটা, ফসলি জমি, সেতু ও স্হাপনা হুমকির মুখে পড়েছে ! এসব কার্যক্রম অবৈধ ঘোষণা করা হলেও এর বিরুদ্ধে প্রশাসন নিরবতা পালন করে আসছেন ! এ বিষয়ে কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ঝালকাঠি জেলাবাসী !

পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এইরকম আরো খবর দেখুন

© All rights reserved © 2020- SottoSamachar.Com || মানুষের সাথে, মানুষের পাশে।

Search Results

Web result with site link

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102