বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৩৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ:
ইয়েমেনে অপুষ্টিতে লাখো শিশু মৃত্যু ঝুঁকিতে বাংলাদেশ এবং তুরস্কের সম্পর্ক আত্মিক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাশ্মিরিদের ঘরে বন্দী রেখেই এবার ভারতীয়দের জমি কেনার অনুমতি দিলেন মোদি ঢাকায় ফ্রান্স সরকারের বিরুদ্ধে বিশাল মিছিল, দূতাবাস ঘেরাও আটকাল পুলিশ ম্যাক্রোঁকে সমর্থন করছে ভারতীয়রা আগাম ভোটের সংখ্যা ১০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সামরিক চুক্তি আঞ্চলিক শান্তির প্রতি হুমকি: পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি ৩১ বাংলাদেশীসহ ৩৮ অবৈধ অভিবাসী আটক মালয়েশিয়ায় মালয়েশিয়ায় জরুরি অবস্থা জারির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান রাজার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে এক কিশোরকে হত্যার অভিযোগ

ঝালকাঠির দুটি স্টেডিয়ামই খেলার অনুপযোগী !

আতাউর রহমান, জেলা প্রতিনিধি, ঝালকাঠি ।।
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২০
ঝালকাঠির দুটি স্টেডিয়ামই খেলার
ছবি: স্টেডিয়াম

ঝালকাঠির দুটি স্টেডিয়ামই খেলার অনুপযোগী:

ঝালকাঠি জেলা শহরের দুটো খেলার স্টেডিয়ামই খেলা-ধূলার অনুপযোগী। এক সময়ের ‘দ্বিতীয় কলকাতা’ খ্যাত ঝালকাঠিতে ঐতিহ্যের সমাহার থাকলেও অযত্ন, অবেহলায় হারিয়ে গেছে অনেক প্রতিভা।

এই জন্যই ঝালকাঠি জেলা থেকে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, কাবাডি, ভলিবল বা অন্য কোনো খেলায় জাতীয় দলে উঠে আসছেন না কেউ।

নিয়মিত খেলার প্রোগ্রাম না হওয়া আর যেগুলো হয় তাতেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ না থাকায় স্টেডিয়াম দুটি খেলার অনুপযোগী হয়ে উঠেছে ।

জেলার চারটি উপজেলায় নামে মাত্র ক্রীড়া সংস্থা রয়েছে । দীর্ঘদিন ধরে নেই কোনো কার্যক্রম। অথচ ক্রিকেট, ফুটবলের পাশাপাশি গ্রাম্য খেলার আয়োজনে একটা সময় সুনাম অর্জন করেছিল ক্রীড়া সংস্থাগুলো।

উপজেলা পরিষদে এডিবির সঙ্গে ক্রীড়া খাতে ব্যয়ের জন্য প্রতিবছর একটা বরাদ্দ থাকত। এই টাকায় ক্রীড়া সংস্থা পরিচালনা ও মাঠ সংস্কার করা হতো।

দীর্ঘদিন এই খাতে তেমন বরাদ্দ না থাকায় জেলার চারটি উপজেলার ক্রীড়া সংস্থাগুলো এক ধরনের নিষ্ক্রিয়।

এক সময় ফুটবল খেলা ছিল দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। এর ছোঁয়া লেগেছিল ঝালকাঠিতেও। সত্তর আর আশির দশকে বছর জুড়েই মুখরিত থাকত ফুটবলে।

ঢাকার বিখ্যাত ফুটবলাররা খেলতে আসতেন এখানে। জনপ্রিয়তা পেয়েছিল কুমার সত্য ঘোষাল শিল্ড। কলকাতার নামি খেলোয়াড়দের এই টুর্নামেন্টে নিয়ে আসতেন সে সময়ের জমিদাররা।

ঝালকাঠিতে সর্বশেষ ফুটবল লিগ হয়েছে আটটি দল নিয়ে ২০০৮ সালে৷  সেটাও ঝালকাঠি জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে। ফিফা আর বাফুফের নির্দেশে সংস্থাটি থেকে আলাদা হয়ে জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হওয়ার পর লিগ হয়নি একটিও।

লিগ না হওয়ার অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন থেকে পাওয়া টাকা হরিলুট করে বসে আছেন ডিএফএর সদস্যরা। বরং টাকার হিসাবে স্বচ্ছতা আছে যথেষ্ট।

ডিএফএ গঠনের পর বাফুফে থেকে আসবাব কেনার জন্য দেওয়া হয়েছিল ৫০ হাজার টাকা। ঘর না থাকায় আসবাব কেনা হয়নি, টাকাটা রাখা হয়েছে ব্যাংকে।

ডিএফএ-র লিগ না হলেও ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা প্রশাসক কাপ। আশির দশকের নিয়মিত এই টুর্নামেন্ট এখন থেকে প্রতিবছরই আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্তারা।

পঞ্চাশের দশকে এখানকার সরকারি স্কুলে মাঠ ছিল তিনটি,  যার একটায় হতো হকি। অন্য দুই মাঠ মুখর থাকত ফুটবলে। কলকাতার খেলোয়াড়রা আসতেন নিয়মিত। ঝালকাঠিরও অনেকে যেতেন কলকাতায় খেলতে।

তবে অধ্যক্ষ হয়ে এসে এম এ ওয়াহেদ স্কুলের বাইরের ছেলেদের খেলতে দিতেন না। মাঠের দাবিতে তাই শুরু হয় আন্দোলন। সে সময়ের সার্কেল অফিসার ইলিয়াস আহমেদ মাঠের দাবির কথা শুনে প্রতিশ্রুতি আর উদ্যোগে পৌরসভার জায়গায় গড়ে ওঠে পুরনো স্টেডিয়াম।

এতে অগ্রণী ভূমিকা ছিল সে সময়ের স্থানীয় চেয়ারম্যান ডা. এম এ জামান, কমিশনার আবদুল হক তালুকদার, আর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাকের।

শুরু হয় সুপারি গাছ কেটে গোলপোস্ট বানিয়ে ফুটবল খেলা। যে স্কুল মাঠে খেলতে দেওয়া হতো না সেটাই এখন সুগন্ধা নদীর বুকে বিলীন। আর ভাঙাচোরা হলেও টিকে আছে পুরনো স্টেডিয়ামটি। যা এখন শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নামে পরিচিত।

করোনাকালে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বাজার বসানো হয় সেখানে। মাছ-মাংসের উচ্ছিষ্ট পরে এবং ঝালকাঠিতে কোন হেলিকপ্টারে কোন হেভিওয়েট মেহমান আসলেই সেখানে করা হেলিপ্যাডের কারণে নষ্ট হয়েছে মাঠে খেলার পরিবেশ। সংস্কার হলে নানা টুর্নামেন্ট আয়োজন সম্ভব এখানেও।

১৯৮৪ সালে গঠিত হয় ঝালকাঠি জেলা ক্রীড়া সংস্থা। ক্রীড়া সংস্থার আছে দুটি স্টেডিয়াম। পুরনো স্টেডিয়ামটি সাড়ে তিন একর জমির উপর ঝালকাঠি থানা রোডে।

পুরনো স্টেডিয়ামের দুটি গ্যালারি অনেক আগে থেকে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পরিত্যক্ত। ৩২৫ ফুট গ্যালারির জন্য আবেদন করা হয়েছিল জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে।

তবে প্রতিটি জেলা স্টেডিয়ামের সংস্কারের জন্য বরাদ্দ ২৫ লাখ টাকার বেশি পায়নি তারা। ১২ ধাপে ৫০ ফুট গ্যালারির কাজ হবে এই টাকায়।

নতুন স্টেডিয়ামটি ঝালকাঠি পৌরসভার বিকনা মৌজায় সাড়ে ৯ একর জমিতে নির্মিত। এর নামকরণ বীর শ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের নামে।

ছয় কোটি টাকায় গড়া স্টেডিয়ামটি উদ্বোধন করা হয়েছিল ২০০৭ সালে। শহর থেকে অনেক দূরে এটা। তাই খেলোয়াড় ছাড়া আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না গ্যালারিতে।

জোড়াতালি দিয়ে হলেও ক্রিকেট খেলা মোটামুটি নিয়মিত এই জেলায়। এরই সাফল্য পেয়েছে সম্প্রতি। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে ২০১৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৬ বিভাগীয় ক্রিকেটের শিরোপা জিতেছে ঝালকাঠি।

এই সাফল্যই বলছে পরিচর্যা আর সঠিক দিক নির্দেশনা পেলে ভালো করবে তারা। কিন্তু খুদে খেলোয়াড়দের দেখভাল করার কথা যাঁর, সেই বিসিবি নিযুক্ত কোচদের দায়িত্বে অবহেলার কথা জানালেন অনেকে।

দীর্ঘদিন জেলা ক্রিকেট দলের অলিখিত প্রশিক্ষক মানিক রায়। করেন সাংবাদিকতাও। খুদে খেলোয়াড়দের ক্রিকেট শিখিয়েই আনন্দ পান বলে চাকরি পাওয়া নিয়ে তদবির করার প্রয়োজন মনে করেন না এই সাদাসিদে জীবন যাপন করা এই ভদ্রলোক।

জেলার খেলায় স্পনসর নেই বললেই চলে। দেশজুড়ে হ্যান্ডবলের স্পনসর কিউট সহযোগিতা করে স্থানীয় হ্যান্ডবল লিগে। সেই লিগটাও অনিয়মিত।

ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল্লাহ খান পনির প্রয়োজনানুযায়ী সাধ্যমতো স্পন্সর করে থাকেন। তবে তেমন খেলা না থাকায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে পাওয়া টাকার সবটা খরচ হয় না জেলা ক্রীড়া সংস্থার। ব্যাংকেও তাই জমেছে কিছু টাকা।

ঝালকাঠি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আল মামুন খান ধলু জানান, করোনাকালে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বাজার বসানো হয় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে (পুরানো স্টেডিয়াম)। মাছ-মাংসের উচ্ছিষ্ট হাড় এবং কাটা পরে থাকায় কোন খেলাই সম্ভব হচ্ছে না।

গত ৩ সেপ্টেম্বর ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী ভাসমান পেয়ারাবাজার পরিদর্শনে আসার কথা ছিলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের। ঢাকা থেকে আকাশ পথে হেলিকপ্টার যোগে ঝালকাঠির শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে (পুরাতন স্টেডিয়ামে) অবতরণের কথা ছিলো। এজন্য প্রস্তুত করা হয়েছিলো হ্যালিপ্যাড।

অনিবার্যকারণবশতঃ তার সফর বাতিল হয়। তিনি ছাড়াও ঝালকাঠিতে কোন হেলিকপ্টারে কোন হেভিওয়েট অতিথি আসলেই সেখানে প্রস্তুত করা হেলিপ্যাডের কারণে নষ্ট হয়েছে মাঠে খেলার পরিবেশ।

এছাড়াও ঝালকাঠির শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর স্টেডিয়াম খেলার অনুপযোগী হয়েছে। মাঠ সর্বত্র সমান না থাকায় কোথাও উঁচু আর কোথাও নীচু রয়েছে। বর্তমান  পরিস্থিতিতে স্টেডিয়াম দুটোই সংস্কার করা অতিজরুরী।

আরও পড়ুন: অপরাধীদের প্রকাশ্যে ফাঁসি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান!

পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

One thought on "ঝালকাঠির দুটি স্টেডিয়ামই খেলার অনুপযোগী !"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এইরকম আরো খবর দেখুন

© All rights reserved © 2020- SottoSamachar.Com || মানুষের সাথে, মানুষের পাশে।

Search Results

Web result with site link

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102