শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে গেছে রিয়াজ ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা !

আতাউর রহমান, জেলা প্রতিনিধি, ঝালকাঠি ।।
  • আপডেট সময় শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর ভাঙ্গনে
ছবি: নিজস্ব প্রতিবেদক

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে গেছে রিয়াজ ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা;

ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার উত্তমাবাদ এলাকায় আকস্মিকভাবে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে সুগন্ধা নদীর ভাঙ্গনে এক কিলোমিটার বিলীন হয়ে গেছে।

মুহূর্তেই নদীতে তলিয়ে গেছে তিনটি বসতঘরসহ একটি ইটভাটা এবং সেই সাথে দুই লাখ ইট। এতে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ৯ টার দিকে সুগন্ধা নদী দিয়ে একটি কার্গো যাওয়ার সময় ডেউয়ে উত্তমাবাদ এলাকার রিয়াজ ব্রিকসের একাংশে ফাটল দেখা দেয়।

এক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো এক কিলোমিটার এলাকা ভেঙ্গে নদীতে বিলিন হয়ে যায়। এতে ওই ইটভাটার ২ লাখ ইট পানিতে তলিয়ে যায়, ভেঙ্গে যায় একটি মেশিন ঘর।

এছাড়াও পাশের তিনটি বসতঘর মালামালসহ নদীতে বিলিন হয়ে যায়। সম্প্রতি বন্যার পানি কমে যাওয়ার পর থেকে সুগন্ধা নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন দেখা দেয়।

গত এক সপ্তাহে নলছিটি শহরের মল্লিকপুর, পুরান বাজার সংলগ্ন এলাকা, খোজাখালী, তিমিরকাঠি, দপদপিয়া, ষাইটপাকিয়া এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা ও ফসলি জমি ভেঙ্গে নদীতে তলিয়ে গেছে।

রিয়াজ ব্রিকসের ম্যানেজার মোঃ মাঈন উদ্দিন বলেন, সকালে শ্রমিকরা ভাটায় কাজ করছিল। নদী দিয়ে একটি কার্গো যাওয়ায় ডেউ আসে। বিকট শব্দে ফাটল ধরে ভাটার বড় একটি অংশে।

এক ঘণ্টার মধ্যে দুই লাখ ইট ও একটি মেশিন ঘর ভেঙ্গে নদীতে তলিয়ে যায়। আশে পাশে আরো তিনটি বসতঘর নদী গর্ভে চলে যায়। ভাটার শ্রমিকরা দ্রুতগতিতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে প্রাণে রক্ষা পায়।

প্রায় দুই লাখ ইট ও একটি মেশিন ঘর নদীতে চলে যাওয়ায় ২০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উত্তমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা সোহেল তালুকদার বলেন, সকাল ৯টার দিকে আকস্মি নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা।

আগের দিন এখানে স্থানীয় শিশুরা খেলাধুলা করেছিল। আজ তা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতি বছরই এখানে এক দফায় নদী ভাঙ্গে। কিন্তু কখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ভৈরবপাশা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, আমাদের ইউনিয়নের মধ্যে উত্তমাবাদ এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ।

নদীতে প্রতিবছরই ফসলের জমি, বসতঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙ্গে যায়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হলেও আজ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এলাকার মানুষ নদী ভাঙ্গনের নিঃশ্ব হয়ে যাচ্ছে। ভয়ে রাতে ঘুম আসে না তাদের।

এই ব্যাপারে ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দিপক রঞ্জন দাস বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে বিষয়টি শুনেছি। সেখানে আমাদের অফিসের লোকজন গিয়ে দেখে এসেছে।

নদী ভাঙ্গন রোধে আমরা বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। গুরুত্ব অনুযায়ী ভাঙ্গন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এইরকম আরো খবর দেখুন

© All rights reserved © 2020- SottoSamachar.Com || মানুষের সাথে, মানুষের পাশে।

Search Results

Web result with site link

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102