রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৪৭ অপরাহ্ন

ঝালকাঠি বিসিক শিল্পনগরী উদ্বোধনের ২বছর পরেও প্লট বরাদ্দ নিচ্ছেনা ব‍্যবসায়ীরা !!

আতাউর রহমান, জেলা প্রতিনিধি, ঝালকাঠি ।।
  • আপডেট সময় বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০
ঝালকাঠি বিসিক শিল্পনগরী উদ্বোধনের
ছবি: বিসিক শিল্পনগরী

ঝালকাঠি বিসিক শিল্পনগরী উদ্বোধনের ২বছর পরেও প্লট বরাদ্দ নিচ্ছেনা ব‍্যবসায়ীরা:

ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি:

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ঢাপড় এলাকায় ১১.৮ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে ঝালকাঠি বিসিক শিল্পনগরী

ঝালকাঠি বিসিক শিল্পনগরী নির্মাণ কাজ ২০১৪ সালে শুরু হয়ে ২০১৮ সালে সম্পন্ন হলে ২০ অক্টোবর তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনের পর প্রায় ২ বছর অতিবাহিত হলেও ১১.৮ একর জমির ২৪ হাজার বর্গফুটের একটি প্লট বরাদ্দ হয়েছে। বাকি জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে আছে।

সেখানে শরৎকালের কাশফুল ফুটে এখন ছবি তোলার স্পটে পরিণত হয়েছে। ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অভিযোগ প্লটের মূল্য অতিরিক্ত বেশি হওয়ায় আগ্রহ হারান তারা।

এই অবস্থায় কর্তৃপক্ষ প্লটের মূল্য কমিয়ে পুনরায় আবেদন আহ্বান করতে প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিসিক প্রধান কার্যালয়ে। প্লট বরাদ্দ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলীও প্লটের মূল্য কমাতে বিসিক চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত আবেদন করলেও তা কোন কাজে আসেনি বলে বিসিক সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, ৪টি ক্যাটাগরির (আকারের) ৭৯টি প্লটের অনুকূলে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছিলেন ১১ জনে। প্লট বাছাই কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে ত্রুটিমুক্ত ঘোষণা করেন ৬টি আবেদন।

যার মধ্য থেকে পারটেক্সের আসবাবপত্র তৈরীর কোম্পানী সারেং ফার্নিচার ২৪ হাজার ফুটের একটি প্লট ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকায় বরাদ্দ নিয়েছে। বাকিরা অতিরিক্ত বরাদ্দ মূল্যের কারণে আর অগ্রসর হননি।

বিসিক সূত্রমতে, বরিশাল-ঝালকাঠি-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ঢাপড় এলাকায় ১১.৮ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে ঝালকাঠি বিসিক শিল্পনগরী।

তবে প্লটভুক্ত জমির পরিমাণ ৮.২৬ একর। প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে সম্পন্ন হয় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে।

এরপর প্লট বরাদ্দের জন্য আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হলে মোট ৭৯টি প্লটের মধ্যে আবেদন পড়েছিলো মাত্র ১১টি। এ, বি, সি এবং এস এই তিন আকারের প্লটের প্রতি বর্গফুট নির্ধারণ করা হয়েছে ৬শ’ টাকা। এ হিসাবে ৬ হাজার বর্গ ফুটের এ আকারের ১টি প্লটের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৩৬ লাখ টাকা।

বি আকারের ৪ হাজার ৫শ’ (সাড়ে চারহাজার) বর্গফুট প্লটের মূল্য ২৭ লাখ টাকা, সি আকারের ৩ হাজার ২শ’ বর্গফুট প্লটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ লাখ টাকা এবং এস (বিশেষ) আকারের প্লটের মূল্য (আনুপাতিকহারে) ১৮ লক্ষাধিক টাকা।

প্লট বরাদ্দের পর ১০ কিস্তিতে মূল্য পরিশোধ করার বিধান রয়েছে। প্রতি কিস্তি ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার সঙ্গে ১০ শতাংশ লভ্যাংশসহ এ আকারের ৬ হাজার বর্গফুটের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৩৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

প্লট বরাদ্দের পর উদ্যোক্তা পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ সুবিধা পাবে। প্লট বরাদ্দ নিয়ে ৩১ মাসের মধ্যে উৎপাদনে যেতে না পারলে বাতিল হবে বরাদ্দ প্লট।

এত বেশি টাকা মূল্য নির্ধারণের কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ বলছে, জমির পরিমাণ কম হওয়ায় শিল্পনগরীর উন্নয়ন খরচ বেশি হয়েছে। সব মিলিয়ে এ প্লটের প্রতি বর্গফুটে খরচ পড়েছে ৫৯২ টাকা। ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, অন্য জমির তুলনায় বিসিকের প্লটের দাম অনেক বেশি।

ব্যবসায়ী জানে আলম জনি জানান, যখন জমির মূল্য নির্ধারণ করে তখন দেখলাম বাহিরের জমির তুলনায় বিসিকের প্লটের মূল্য অনেক বেশি। যার জন্য অনেকের পক্ষে জমির প্লট বরাদ্দ নেয়া সম্ভব হয়নি।

উদ্যোক্তা জামাল শরীফ জানান, অন্যান্য বিসিক নগরীর তুলনায় যদি প্লটের দাম একটু কম হয় তাহলে আমাদের মতো যারা উদ্যোগ নিয়ে ব্যবসার জন্য আগ্রহী তারা সবাই আসতে পারবে। সব প্লটগুলো তাড়াতাড়ি বিক্রি হলে বিসিক নগরী চালু হবে।

উদ্যোক্তা সারেং ফার্নিচারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহআলম জানান, বিসিকের দর অনুযায়ী কাঠা পড়েছে ১০ লাখ টাকার ওপরে। একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর পুঁজিই বা কত থাকে।

এরপর যদি এত বেশি দামে প্লট কিনতে হয় তারপর তাকে প্রতিষ্ঠান করতে আবার লোন নিতে হবে। এটা কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই বিবেচনা করে মূল্য না কমালে উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসবে বলে আমার মনে হয় না। প্রয়োজনে সরকারকে ভর্তুকি দিয়ে হলেও এর মূল্য কমাতে হবে।

এদিকে সরকারী নিয়ম অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণের জন্য দলিলপত্র নেয়া হলেও প্রকৃত মূল্য দাতাদের দেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগে ঝালকাঠির আদালতে দেওয়ানি মামলাও চলমান রয়েছে।

এই বিষয়ে জমি দাতা অবসরপ্রাপ্ত ক্রীড়া কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, জমি তো আমরা বিসিককে দিয়ে দিছি। জমির দাম যেভাবে নির্ধারণ হবার কথা সেভাবে নির্ধারণ হয়নি বিধায় আমরা খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

বিসিক উপ-ব্যবস্থাপক মো. শাফাউল করীম জানান, শিল্পনগরীর জমি কম, তবে উন্নয়ন খরচ বেশি হওয়ায় প্লটের দামে তার প্রভাব পড়েছে। এ কারণে মূল্য বেশি হওয়ায় প্লট বরাদ্দের আবেদনে তেমন সাড়া পাইনি।

তাই আমরা এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় ও সিদ্ধান্ত জানতে বিসিক প্রধান কার্যালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। প্লট বরাদ্দ কমিটির সভায় সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী প্লটের মূল্য কমাতে বিসিক চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন।

উদ্যোক্তারা যেন দ্রুত এসে প্লট বরাদ্দের বিষয়টি জেনে নিয়ে প্লট বরাদ্দের জন্য আবেদন করার আহ্বান জানান তিনি। পদ্মা সেতু ও পায়রা বন্দর চালু হলে জমে উঠবে এ শিল্প নগরী এমন দাবি করে প্লট বরাদ্দ শেষ করতে চান উপ-ব্যবস্থাপক মো. শফিউল আলম !

আরও পড়ুন: রাজপুরে র‌্যাবে অভিযানে ধারালো অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এইরকম আরো খবর দেখুন

© All rights reserved © 2020- SottoSamachar.Com || মানুষের সাথে, মানুষের পাশে।

Search Results

Web result with site link

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102