শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২:১২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শোবার ঘর থেকে গলিত লাশ উদ্ধার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্মাণাধীন তিন তলার ছাদ থেকে পড়ে শ্রমিক নিহত রাজধানীর গুলশানের নর্দা এলাকায় কাভার্টব্যানের পত্রিকার হকার নিহত স্বর্ণের মতো চার ক্যাটাগরিতে বি‌ক্রি হবে রূপা হযরত মুসা (আ:)-এর স্মৃতি বিজরিত সেই কূপ ও বাড়ি এখনো টিকে আছে সৌদি আরবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা অনুশীলন অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সসহ সদর উপজেলায় ১২ জন শনাক্ত যুক্তরাষ্ট্রের কোলে আশ্রয় নিতে ছুটছে ভারত, পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে চীন বিশ্বকে অবশ্যই ‘গণতান্ত্রিক’ মিয়ানমারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে বাড্ডায় জবাই করা যুবকের মরদেহ উদ্ধার

পাকিস্তানের জন্য কেমন হবে হিলাল-ই-পাকিস্তান পদকে ভূষিত বাইডেন !!

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২০
পাকিস্তানের জন্য কেমন হবে
হোয়াইট হাউজে প্রবেশের দৌড়ে জো বাইডেন জয়ী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নির্বাচনে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ২৭০ ভোটের বেশিই পেয়েছেন। জয়ের পর বাইডেন শুরু করেছেন টুইটারে একথা বলে যে আমেরিকা আমাদের মহান দেশকে নেতৃত্ব দিতে আমাকে পছন্দ করায় আমি সম্মানিত।
আমাদের সামনে যে কাজ আছে, তা অনেক কঠিন হবে। তবে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমি সব আমেরিকানের প্রেসিডেন্ট হবো, আপনি আমাকে ভোট দিয়ে থাকেন বা না থাকেন। আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তার প্রতিদান দেব। বাইডেন ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তার বয়স ৭৮, তিনি হতে যাচ্ছেন আমেরিকার সবচেয়ে বেশি বয়স্ক প্রেসিডেন্ট।
বাইডেন রাজনীতিতে আছেন ৫০ বছর ধরে। তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ মার্কিন সিনেটর, ডেলাওয়ারের সবচেয়ে বেশি দিন ধরে সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী। তিনি দুবার ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ওবামার সাথে ২০০৮ ও ২০১২ সালে। তিনি আবার দুবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার লড়াই করেছিলেন, তবে বিফল হয়েছিলেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপরীতে পাকিস্তানের সাথে দীর্ঘ ইতিহাস আছে জো বাইডেনের। পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে সব সময় উৎসাহিত করেন বাইডেন। মার্কিন সিনেটর ও সিনেট ফরেন রিলেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি ২০০৮ সালে ইনহান্সমেন্ট পার্টনারশিপ অ্যাক্টের উদ্যোগ নেন। পরে ২০০৯ সালে তা কেরি-লুগার-বারম্যান অ্যাক্টে পরিণত হয়।
এতে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানর মধ্যে জোরালো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কামনা করা হয়, পাকিস্তানের দীর্ঘ মেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর নজর দেয়া হয়, পাকিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে আঞ্চলিক শান্তি স্থাপনের তাগিদ দেয়া হয়। এই অ্যাক্টের ফলে পাকিস্তানকে অসামরিক খাতে ২০১০-২০১৪ পর্যন্ত কয়েক বিলিয়ন ডলার সহায়তা প্রদান করা হয়।
বাইডেন তার ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে অনেকবার পাকিস্তান সফর করেছেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলনি ও নওয়াজ শরিফ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারাদারির সাথে সাক্ষাত করেছেন।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে পাকিস্তানের আঞ্চলিক সম্পর্ক বিষয়ে অবগত বাইডেন অনেক আন্তর্জাতিক ফোরামে কাশ্মীর নিয়ে কথা বলেছেন, আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা কামনা করেছেন। তার এসব প্রয়াসের কারণে তিনি পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার হিলাল-ই-পাকিস্তান পদকে ভূষিত হয়েছেন।
বাইডেন ২০১১ সালে পাকিস্তান সফরের সময় বলেছিলেন, আমার ও প্রেসিডেন্ট ওবামার দৃষ্টিতে পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আমেরিকার স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি আপনাদের বিশ্বাস করতে বলছি যে, তা পাকিস্তানের স্বার্থের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, যারা বিশ্বাস করে যে আমেরিকার নীতি পাকিস্তানকে দুর্বল করতে চায়। তারা জেনে রাখবেন, তা ভয়াবহ মাত্রায় ভুল। আমরা চাই একটি শক্তিশালী, স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক পাকিস্তান, যে নিজে শান্তিতে থাকবে, ভারতসহ প্রতিবেশীদের শান্তিতে রাখবে। আমরা আপনাদের স্বার্থেই নয়, বরং আমাদের নিজেদের স্বার্থেও তা কামনা করি।
তিনি যেমন পাকিস্তানের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন, আবার ২০০৭ সালে পাকিস্তানকে সম্ভাব্য সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ হিসেবেও তালিকাভুক্ত করেছেন। ২০০৮ সালে এই বাইডেনই ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিতর্কে জোর দিয়ে বলেছিলেন, আমাদের দেশে যদি কোনো হামলা হয়, তবে তা হবে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে।
ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওবামা-বাইডেন আমলে পাকিস্তানে মার্কিন ড্রোন হামলা ৬৩১ ভাগ বেড়েছিল।
চলতি বছরের ডেমোক্র্যাটিক বিতর্কে বাইডেন বলেছিলেন, আফগানিস্তান বা পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যে কোনো সন্ত্রাসী হামলা আমরা প্রতিরোধ করব। আবার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আফগানিস্তান সফরের সময় ওই সময়ের আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই তাকে পাকিস্তানের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে বলেছিলেন, যাতে দেশটি তালেবানকে সমর্থন বন্ধ করে। জবাবে বাইডেন বলেছিলেন, আফগানিস্তানের চেয়ে পাকিস্তান ৫০ গুণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ তাদের কাছে।
ট্রাম্পের আমেরিকা ফার্স্ট নীতির বিপরীতে বাইডেন বৈশ্বিক কূটনীতিতে বিশ্বাস করেন। ফলে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের আগে আফগান বাহিনী ও তালেবানের মধ্যে শান্তিচুক্তির কথা আবারো বলতে পারেন।
এখন বাইডেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় কাশ্মীর প্রশ্নে তার নীতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাশ্মীরের ওপর পাকিস্তানের দাবি জোরদার করবে। তিনি ইতোপূর্বে কাশ্মীর ইস্যুতে সোচ্চার ছিলেন। তার ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নৃশংসতার প্রতিবাদ করেছিলেন।
পাকিস্তানের জন্য কী অর্থ বহন করছে? ট্রাম্পের বিচ্ছিন্নতাকেন্দ্রিক নীতি যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্ক অবনতি ঘটিয়েছিল। এখন বাইডেন দায়িত্বে আসায় আশা করা যেতে পারে যে পকিস্তানের প্রতি সহযোগিতামূলক নীতি গ্রহণ করা হবে। বাইডেনের বৈশ্বিক কূটনীতি ও সহযোগিতা আরো উন্নত কৌশলগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
তবে ওবামা-বাইডেন প্রশাসনের আমলে আটটি মুসলিম দেশে মার্কিন ড্রোন হামলার কথাও ভুলে যাওয়া উচিত হবে না। কোনো কোনো বিশ্লেষক বলছেন, দুই খারাপের মধ্যে বাইডেন কিছুটা কম খারাপ, তিনি পাকিস্তানের জন্য ট্রাম্পের চেয়ে ভালোই হবেন। আবার অনেকে বলছেন, পাকিস্তান প্রশ্নে মার্কিনীতিতে কোনোই পরিবর্তন আসবে না। সূত্রঃ জিভিএস

পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

2 thoughts on "পাকিস্তানের জন্য কেমন হবে হিলাল-ই-পাকিস্তান পদকে ভূষিত বাইডেন !!"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এইরকম আরো খবর দেখুন

© All rights reserved © 2020- SottoSamachar.Com || মানুষের সাথে, মানুষের পাশে।

Search Results

Web result with site link

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102