শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০১:০২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ:
ইয়েমেনে অপুষ্টিতে লাখো শিশু মৃত্যু ঝুঁকিতে বাংলাদেশ এবং তুরস্কের সম্পর্ক আত্মিক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাশ্মিরিদের ঘরে বন্দী রেখেই এবার ভারতীয়দের জমি কেনার অনুমতি দিলেন মোদি ঢাকায় ফ্রান্স সরকারের বিরুদ্ধে বিশাল মিছিল, দূতাবাস ঘেরাও আটকাল পুলিশ ম্যাক্রোঁকে সমর্থন করছে ভারতীয়রা আগাম ভোটের সংখ্যা ১০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সামরিক চুক্তি আঞ্চলিক শান্তির প্রতি হুমকি: পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি ৩১ বাংলাদেশীসহ ৩৮ অবৈধ অভিবাসী আটক মালয়েশিয়ায় মালয়েশিয়ায় জরুরি অবস্থা জারির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান রাজার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে এক কিশোরকে হত্যার অভিযোগ

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড : ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায় পর্ব-৩

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড এক অবিশ্বাস্য রক্তাক্ত সামরিক অভ্যুল্থান, যাতে বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মৃত্যু, বাঙালির প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালবাসা, সারা জীবনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, পাকিস্তানের শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার বিদ্রোহ অবশেষে স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাক এবং দেশ স্বাধীন করার অনুপ্রেরণা যোগানো সবই যেন কয়েকটি বিক্ষুব্ধ বুলেট শেষ করে দিয়ে গেল। শেষ করে দিল বাংলাদেশের দীর্ঘ সংগ্রামের নেতৃত্ব দানকারীর প্রাণ। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ আর বাঙালি জাতি হিসেবে তখনও সুসংগঠিত হতে পারেনি। পারেনি নয়মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ক্ষত শুকাতে। শেষ হয়নি পাকিস্তানি বর্বরতার শিকার স্বজন হারাদের ক্রন্দন।
বঙ্গবন্ধুর বাসভবন ধানমণ্ডি বত্রিশ নম্বরের বাড়িটি অত্যন্ত সাধারণ কাঠামোর একটি অসম্পূর্ণ তিন তলা মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারের অনাড়ম্বরপূর্ণ বাড়ি। যে বাড়িতে নেই অতিরিক্ত বিলাস বহুল জীবনের ছোয়া। সাধারণ মানের আসবাবপত্র,সিলিং ফ্যান। এই সাধারণ বাড়িটিই বাঙালির রাজনীতির বাতিঘর।
প্রায় সম্পূর্ণ প্লটেই বাড়িখানা নির্মিত। ধানমণ্ডির অন্যান্য বাড়ির তুলনায় নিতান্তই ছোট জায়গার উপরে তৈরি। এর আশেপাশের বাড়িগুলোও প্রায় গায়ে গায়ে লাগানো।বাড়িগুলো এত ঘন যে, রাষ্ট্রপতির সামান্য নিরাপত্তা দেয়াও এখানে দুরূহ ব্যাপার। বিগত আন্দোলন সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর মত একজন ধ্রুপদী নেতা কখনও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেননি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী/রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনরকম নিরাপত্তা বেষ্টনী ব্যতিত চলাফেরা করতেন। রাস্তায় চলাচলে নেই অতিরিক্ত নিরাপত্তা।

এই সেই বাড়ি যেটা বাংলার ইতিহাসে স্বাধীনতার প্রতিটি সংগ্রামের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই সেই জায়গা যেখান থেকে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। এ বাড়ি থেকেই ২৫ মার্চ ১৯৭১ দিনগত রাত অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা করেছে।এখান থেকে পাকবাহিনীর হাতে বন্দি হয়ে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে দীর্ঘ নয় মাস বন্দি জীবন যাপন করেছে। এই বাড়িটি বাঙালির অধিকার আদায় ও সংগ্রামের ইতিহাস।এখানে বা এর আশেপাশে মিলিটারি বা অন্যান্য বাহিনীর আগমন নতুন নয়। বহুবার পাকসেনারা এ বাড়ি অবরোধ করেছে আর বাড়ির বাসিন্দারা হয়েছিলেন অবরুদ্ধ। কিন্তু আজ এখানে বসবাসরত পরিবারের সবাই নিস্তব্ধ, শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর কন্যাদ্বয় ছাড়া, যারা সেদিন কপাল জোরেই দেশের বাইরে থাকাতে প্রাণে বেঁচে যান, হয়তোবা ইতিহাস তাদের কাছ থেকে আরও কিছু পাবে বলে।
বঙ্গবন্ধুর বাড়ি খুনিদের দ্বারা আক্রান্ত হলে তিনি সেনাপ্রধান, তাঁর স্পেশাল এসিস্ট্যান্ট রক্ষীবাহিনীর নিয়ন্ত্রণকর্তা জনাব তোফায়েল আহমেদ এবং অন্যান্য আরো অনেককে টেলিফোন দিয়েও ত্বরিত সাহায্য পেলেন না। তখন তিনি তাঁর নিরাপত্তা অফিসার কর্নেল জামিলকে ফোন দিয়ে সাহায্য কামনা করে। বঙ্গবন্ধুর বাড়ির পরিস্হিতি হৃদয়ঙ্গম করে তিনি অশ্রুসজল নয়নে নিজের গাড়ি নিয়ে ধানমণ্ডির ৩২ নং রোডের বাড়ির দিকে রওয়ানা হয়ে যান। তিনি জানতেন তিনি মৃত্যুবরণ করতে পারেন, তারপরও নিজের দায়িত্ব পালনে নির্ভীক। সোবহানবাগ মসজিদ পার হয়ে সামনে এগিয়ে আসার পর ঘাতকের বুলেট তাকে স্তব্ধ করে দেয়। বঙ্গবন্ধুর ডাকে নিজের জীবন উৎসর্গ করে প্রমাণ করেছেন তিনি বেঈমান ছিলেন না।

হুমায়ূন কবির হাওলাদার এর ফেইসবুক থেকে নেয়া।

পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এইরকম আরো খবর দেখুন

© All rights reserved © 2020- SottoSamachar.Com || মানুষের সাথে, মানুষের পাশে।

Search Results

Web result with site link

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102