বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড : ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায় পর্ব-৪

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২০

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড: ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায়
পর্ব-৪

তবে অনেক আগে থেকেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এ পরিকল্পনার কথা বঙ্গবন্ধুও কিছুটা টের পেয়েছিলেন বলে অনেকের লেখায় প্রকাশ পায়। অশোকা রায়না রচিত ‘In side Raw the story of India’s Secret service’ গ্রন্হে লেখক বলেছেন, ১৫ আগস্টের পূর্বেই RAW (রিসার্চ এন্ড এনালাইসিস উইং) এর পরিচালক মিস্টার কাও বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং বঙ্গবন্ধুকে এ ব্যাপারে সাবধান করে দিয়েছিলেন। এখানে লেখক বলেন যে, ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই RAW বাংলাদেশের পরিস্হিতি খারাপ দেখে এবং একটি অভ্যুল্থানের আশঙ্কা করায় RAW এর একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা মিস্টার নায়ের, কাদের সিদ্দিকীকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করেন এবং সার্বিক পরিস্হিতি জানান। কিন্তু বঙ্গবন্ধু এসব তথ্যের কোন গুরুত্ব দেননি। এর প্রায় চারমাস পরে ঢাকাস্হ RAW এর জনৈক এজেন্ট মেজর রশিদ, মেজর ফারুক, জেনারেল ওসমানী, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের বাসায় অভ্যুল্থান সম্বন্ধে যে আলোচনা হয় তার বৃত্তান্ত জানতে পারে এবং এ সংবাদ দিল্লীতে পাঠায়। তার কয়েক সপ্তাহ পরে RAW এর প্রধান মিস্টার কাও পান আমদানী কারকদের ছদ্মবেশে এসে বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করে সব বৃত্তান্ত জানান। কিন্তু এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুকে বোঝাতে সক্ষম হননি। নামগুলো তাঁকে দেয়ার পরও তিনি তা দেখে স্বভাব সুলভ ভঙ্গিতে বলেন, এরা আমার সন্তানের মতো, এরা আমার কি ক্ষতি করবে। তবে গ্রন্হটিতে অন্য কোন ব্যক্তিকে জানানো হয়েছিল কিনা তা পরিষ্কার করে বলা হয়নি।

দেশের প্রতিরক্ষা এবং সামরিক বাহিনী’র সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে কাজ করছিলেন সেনাবাহিনীর উপ-সেনাপ্রধান এবং ডিফেন্স কমিটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী জনাব নুরুল ইসলাম এর অফিসে সামরিক বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলাকালে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর রেড টেলিফোনের রিং বেজে উঠে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিসিভার কানে ধরলেন। কিছুই বলতে পারলেন না শুধু জি লিডার, জি লিডার বলছেন। মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান তা অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে শুনছেন।রিসিভার রেখে দিলেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর চেহারা হতাশাজনক-রেড ফোনের অন্য পাশের নির্দেশে তিনি সন্তষ্ট হতে পারেননি। মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ছিলেন দুর্দান্ত চৌকষ ও উচ্চাভিলাষী; অত্যধিক ধূর্ত প্রকৃতির মানুষ।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে চিন্তিত দেখে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান তাঁকে মন খারাপের বিষয় এবং ফোনে কি কথা হলো জানতে চান। প্রতিরক্ষামন্ত্রী চিন্তিত এবং নীরব। প্রতিরক্ষামন্ত্রী এজন্য চিন্তিত যে, তিনি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে আশ্বস্ত করে রেখেছিলেন যে, ০৬ এপ্রিল ১৯৭৫ তারিখে মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ স্বাভাবিক অবসরে যাবেন এবং তদস্থলে তিনিই হতে যাচ্ছেন পরবর্তী সেনাবাহিনী প্রধান । মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান এর পীড়াপিড়িতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জনাব নুরুল ইসলাম বললেন, “বঙ্গবন্ধু, মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহর চাকুরি এবং নিযুক্তির মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধি করার আদেশ দিয়েছেন”। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বললেন, I don’t want to continue my job, I’m giving my resignation right now. -আমি আর চাকুরি করবো না, এখনই আমি আমার পদত্যাগ পত্র দিচ্ছি। এই বলে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর টেবিলে মজুদ এক কপি সাদা কাগজে হাতে লিখে পদত্যাগপত্র প্রতিরক্ষামন্ত্রী জনাব নুরুল ইসলামের সামনে উপস্থাপন করেন।প্রতিরক্ষামন্ত্রী একধিকবার পদত্যাগপত্র ফিরিয়ে নিতে অনুরোধ করেন। এক পর্যায়ে ধূর্ত মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান এর কূটবুদ্ধি মাথায় এলো পদত্যাগপত্রটি ফেরত নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী’র সম্মুখেই ছিড়ে ফেলেন, এবং See you – দেখা হবে, বলে কক্ষ ত্যাগ করেন। ১৯৭৫ এর পর মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান  অবৈধভাবে রাস্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করলে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী জনাব নুরুল ইসলাম দুঃখ করে বলেছিলেন, ঐদিন যদি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান এর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করতাম তাহলে ইতিহাস ভিন্ন হত। জনাব হুমায়ুন কবির হাওলাদার এর ফেইসবুক থেকে।

চলবে……..

·

পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এইরকম আরো খবর দেখুন

© All rights reserved © 2020- SottoSamachar.Com || মানুষের সাথে, মানুষের পাশে।

Search Results

Web result with site link

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102