রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১২:৫১ অপরাহ্ন

বিশ্বাস!!

তানিয়া আক্তার
  • আপডেট সময় সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২০

বিশ্বাস শব্দটার খুবই গভীর। পৃথিবীতে এই শব্দটির অস্তিত্ব না থাকলে বোধয় পৃথিবীটাই অচল হয়ে পড়ত, বিশ্বাস  করাটা মানুষের মৌলিক গুণাবলির মধ্যে একটি। জন্মের পরে আস্তে আস্তে যখন জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেচনানোধ সৃষ্টি হয় তখন বিশ্বাসটা  আপনা আপনিই মানুষের মধ্যে জাগ্রত হয়। জন্মের পর একটা শিশু তার বাবা-মাকে বিশ্বাস করে। তারপর আসে-পাশে সবার উপর বিশ্বাস করা শুরু করে। কিন্তু জীবনের চলার পথে এমন অনেক মানুষ আসে যাদের উপর বিশ্বাস করা যায় না। অনেকসময় একজন ব্যাক্তি দ্বিধার মধ্যে পরে যায়। এই ধোকাবাজির পৃথিবীতে কাকে বিশ্বাস করবে আর কাকে না। আমার সাথেও এরকমটা প্রায়ই হয়।
আজকে একটা জিনিস জেনে খুব অবাক লাগল। পৃথিবীটা কী সুন্দর বিশ্বাসের মধ্যে টিকে আছে! আজকে সকালের নাস্তা খাওয়ার সময় মা অনেকগুলো পিঠা, নাড়ু, লাড্ডু এবং হালুয়া এনে দিল। মা বললো, “আমাদের বাসার তিন তলার হিন্দু পরিবার থেকে এগুলো দিয়ে গেছে, তাড়াতাড়ি এগুলো খেয়ে পড়তে বোস।” আমি বললাম , “মা এগুলো কোন উৎসবের জন্য? আমার জানা মতে এখন তো হিন্দু ধর্মের কোনো পুজো পার্বণ নেই। তাহলে এগুলো কীসের? হতে পারে হিন্দু ধর্মের কোনো উৎসব। তাদের তো আবার বারো মাসে তেরো পার্বন থাকে।”
মা বললেন, “মাঘ মাসের প্রথম রাতে নাকি তাদের গোসল করতে হয়। তাকে তারা ‘মাঘবোড়’ বলে। এরপর নাকি মাঘ মাসের প্রথম কয়েকদিন প্রচুর রোদ ওঠে এবং শীত কম থাকে। আজকে পৌষ মাসের শেষ দিন, এই জন্য আজকে গভীর রাতে পূর্ণিমার সময় তাদের দেবীকে খুশি করার জন্য এই গোসল দিবে এরপর তাদের দেবীকে খাবার ভোগ দেবে।” মা এর কথা শুনে আমার খুব হাসি পেল। খাবার টেবিলে বসেই আমি হাসছি। আম্মু ধমক দিয়ে বলল, “এই তন্মী চুপচাপ বসে খা, অন্য ধর্মের বিশ্বাসকে নিয়ে হাসি তামাশা করতে নেই। সকল ধর্মের বিশ্বাসকেই সম্মান দেওয়া উচিত।” আমার কথা শুনে আমি চুপচাপ খেয়ে নিলাম। হিন্দু আন্টিটার পিঠা ও নাড়ু গুলোও খেলাম, খুব সুস্বাদু। কিন্তু আমি অবাক হলাম তখনই যখন দেখলাম প্রচন্ড শীতের মধ্যেও পরের দিন থেকে শুরু করে পরপর পাঁচদিন রোদ ওঠলো। এর আগে প্রচন্ড হাড় কাপানো শীতে লোকজন অস্থির ছিল। সারাদিন একবারও সূর্য্যি মাামার দেখা মেলা ভার। কিন্তু সেদিন মাঘবোড়ের ঘটনার পর থেকে রোদ উঠা শুরু করেছে এবং শীতও তুলনামূলকভাবে কম, এভাবেই হয়তো প্রত্যেকটি মানুষ প্রত্যেকটি জাতি বিশ্বাসের উপর টিকে আছে। রাতে ঘুমাতে গেলে এই বিশ্বাস থাকে যে পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দিনের কাজকর্ম করবে। একটা জিনিস চিন্তা করা যায় একে অপরের উপর বিশ্বাস না থাকলে কেমন হতো, কিভাবে চলতো আমাদের এই পৃথিবী। বিশ্বাস না থাকলে মারামারি, খুনাখুনি, পারস্পরিক সম্পর্ক সবই নষ্ট হয়ে যেত। আবার অনেকসময় ভুল মানুষকে বিশ্বাস করেও আমাদের ঠকতে হয়। তাই আমাদের বন্ধু-বান্ধব এবং চলার পথে সঠিক মানুষকে বিশ্বাস করা শিখতে হবে। আমাদের অন্যের বিশ্বাসকে রক্ষা করার চেষ্টাও করতে হবে।

পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এইরকম আরো খবর দেখুন

© All rights reserved © 2020- SottoSamachar.Com || মানুষের সাথে, মানুষের পাশে।

Search Results

Web result with site link

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102