শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যেসব সুবিধা পান বাস ও সিএনজি অটোরিকশা সংঘর্ষে এক শিশু নিহত, আহত ৫ ছোট ভাইয়ের জানাজার পর বড় ভাইয়ের মৃত্যু নাগোর্নো-কারাবাখের শেষ প্রদেশেও প্রবেশ করেছে আজারবাইজানের সেনাবাহিনী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নতুন ১২ জন আক্রান্ত, জেলায় ২৬৫৬ জন শনাক্ত কাশ্মীর ইস্যুতে আবারও উত্তপ্ত ভারত-পাকিস্তান দলীয় মনোনয়নের আবেদন ফরম সংগ্রহ করলেন সাবেক মেয়র হেলাল উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাচাকে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন একটি স্বাধীন, সুসংহত ও টেকসই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশ ওআইসি বৈঠকে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে যৌথ প্রস্তাব গ্রহণ করেছে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশগুলো

ভারতের কারণে এশিয়ার গণ্ডিতে আটকে আছে বাংলাদেশ!

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২০ নভেম্বর, ২০২০
ভারতের কারণে এশিয়ার গণ্ডিতে
পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া (আসিয়ান), অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড নতুন এক বাণিজ্য এলাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। প্রথমবারের মতো জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া একত্রিত হয়ে চীনের সাথে বাণিজ্যচুক্তি করেছে। এই বাণিজ্য জোট দুনিয়া-কাঁপানো।
এতে ক্রয়শক্তির হিসাবের (পিপিপি)পরিভাষায় পৃথিবীর মোট সম্পদের এক তৃতীয়াংশ আছে। আসিয়ানের সূচিত এই উদ্যোগে পরিষেবা, বিনিয়োগ, ই-কমার্স, টেলিকমিউনিকেশন্স, মেধাসত্ত্ব অন্তর্ভুক্ত। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার সময় রিজিওন্যাল ইকোনমিক পার্টনারশিপ বা আরসিইপিতে ভারতও ছিল। কিন্তু হিন্দুত্ববাদী দিল্লী গত বছরের এ সময়ে চুক্তি থেকে সরে যায়।
ভারত কি ভয় পায়?
ভারতের তত গতিশীল না থাকা অর্থনীতির কি চীনা পণ্যের বিরুদ্ধে সংরক্ষণবাদী প্রতিবন্ধকতা স্থায়ীভাবে রক্ষা করা প্রয়োজন? মধ্য মেয়াদে ভারত বিশ্বের তৃতীয় অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হওয়ার অনেক কথা বলা হলেও আসলে দেশটি পূর্ব এশিয়ান অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতাকে ভয় পায়।
দেশটি মৌনভাবে স্বীকার করে নিয়েছে যে তাদের দেশ রফতানি-চালিত অর্থনীতি নয়। তাদের রফতানির বেশির ভাগই কাঁচামাল বা নিম্ন প্রযুক্তির সামগ্রী। এ কারণেই মূলত চীনের সাথে তাদের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার। আইটি সফটওয়্যার নয়, লোহার আকরিক, সুতা ও রত্নপাথরই চীনে তাদের প্রধান রফতানি পণ্য।
অবশ্য দুট বিষয় মনে রাখতে হবে। প্রথমত, ১৭টি দেশের জোটে সবচেয়ে ধনী অর্থনীতি জাপান অনেক আলোচনা করেছে, বিশেষ করে কৃষি ও খাদ্য নিয়ে। দ্বিতীয়ত, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও লাওসের মতো গরিব দেশগুলো বিশ্বজয়ী অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে পরিচিত নয়। তাহলে ভারতীয় হাতি যেখানে প্রবেশ করতে ভয় পায়, সেখানে কিভাবে এসব দেশ উত্তর-পূর্ব এশিয়ার ম্যানুফেকচারিং হ্যারিকেন প্রতিরোধ করতে পারবে বলে মনে করছে?
নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, মোদির ব্যবসায়ী সঙ্গীরা ভারতের অর্থনৈতিক গোলকধাঁধার দুর্নীতিতে চলাচল করতে দক্ষ। সে কারণে তারা ছোট পুকুরে বড় মাছ হতে থাকতে চায়। উদারিকরণের তিন দশকের পরও মনে হচ্ছে তারা স্টিল, টেক্সাইল ও ডেইরি খাতে প্রতিযোগিতা করতে অক্ষম। এর দক্ষিণ এশিয়ান ফ্রি ট্রেড এরিয়া অপ্রাসঙ্গিক। আরসিইপি থেকে তার সরে আসার আরেকটি কারণ রয়েছে।
২০১৯ সালে শেষ মিনিটে ভারতের সরে আসার অন্যতম কারণ হলো তাকে আমেরিকার পেছন থেকে ডাকা। আমেরিকান চাপের কারণেই ইরানের কাছ থেকে সে সরে এসেছিল। আরপিইসির ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটল।
ভারত দাবি করছে, তারা বাণিজ্য যোগাযোগ বাড়াতে চায়। আসিয়ানের সাথে তার আগে থেকেই মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি ছিল। মূলত, চীনের সাথে যোগাযোগ সীমিত করার আকাঙ্ক্ষাতেই সে পরিচালিত হচ্ছে। আসিয়ান অর্থনৈতিক সহযোগিতার কাঠামোর মধ্যেই বিকশিত হতে না চাওয়াটা প্রায় বিরক্তির পর্যায়েই পড়ে। এর বদলে ভারতকে আমেরিকা উৎসাহিত করছে চীনের সাথে বিপর্যয়কর মুখোমুখি হতে।
মনে রাখতে হবে, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া কোয়াডের (চীনবিরোধী গ্রুপিং) সদস্য হলেও তারা আরসিইপিতেও আছে। ভারতও তা করতে পারত। এখন ভারত আরো ৩০ বছরের জন্য এই অর্থনৈতিক এলাকা থেকে উপকৃত হওয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখল।
বাংলাদেশ?
ভারত আরসিইপিতে সই করলে, বাংলাদেশ ওই এলাকায় সক্রিয় ভারত ও মিয়ানমারে নিজেকে পরিবেষ্টিত দেখতে পেত।
ওই পরিস্থিতিতে প্রবৃদ্ধি ও জনসংখ্যা বিবেচনা করে বাংলাদেশকেও সাথে সাথে তাতে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারত। ডলারের হিসাবে জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। একই সূচকে মিয়ানমারের কাছ থেকে পেছনে থাকলেও বৃহত্তর শিল্প খাতে বেশ এগিয়ে আছে।
ভারত আরসিইপিতে যোগ দিলে গ্রুপটি হলো দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার ইউনিয়ন। বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রান্তবর্তী দেশ, সেইসাথে দক্ষিণ এশিয়ার জন্য চীনে যাওয়ার প্রবেশদ্বারও।
শেষ কথা হলো, আরসিইপি সদস্যরা সংক্ষিপ্ততর সরবরাহ শৃঙ্খল দেখবে, গভীরতর আঞ্চলিক যোগাযোগ দেখবে, বৃহত্তর অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ দেখবে, অনেক বেশি প্রযুক্তি হস্তান্তর দেখবে। এটা হবে ‘এশিয়ার জন্য এশিয়ার তৈরী’: এশিয়ার ভোক্তা ও ম্যানুফেকচারিং প্রবৃদ্ধি বাজার।
বাংলাদেশের কৌশলত সম্প্রদায়ের জন্য প্রশ্ন হলো: আরসিইপি যদি আরো সদস্য গ্রহণের জন্য উন্মক্ত হয়, তবে কি বাংলাদেশের কি তাতে যোগদানের কোনো পরিষ্কার লক্ষ্য থাকবে? তার কি আসিয়ান+১-এ যোগদান করা উচিত হবে না? ২০২০-এর দশকে বাংলাদেশ কোন দিকে মুখ ঘোরাবে? চীনের সাথে কৌশলগত অংশীদারিত্বে সে কত দূর যাবে?
এই মুহূর্তে আমরা দেখছি যে সৌভাগ্যবানদের ভেতরে নেয়ার জন্য আরসিইপি এগিয়ে আসায় দক্ষিণ এশিয়ার ছোট দেশগুলো এ দিকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। বাংলাদেশ চির দিনের জন্য বাইরের ঠাণ্ডায় কাঁপতে থাকতে পারে না। সূত্রঃ ঢাকা ট্রিবিউন
লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক

পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

One thought on "ভারতের কারণে এশিয়ার গণ্ডিতে আটকে আছে বাংলাদেশ!"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এইরকম আরো খবর দেখুন

© All rights reserved © 2020- SottoSamachar.Com || মানুষের সাথে, মানুষের পাশে।

Search Results

Web result with site link

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102