রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৪৬ অপরাহ্ন

ভারতের সাথে আলোচনার জন্য পাকিস্তানের ৫ পূর্বশর্ত

অনলাইন ডেস্ক ।।
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২০
ভারতের সাথে আলোচনার জন্য
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সাথে আলোচনার জন্য পাকিস্তানের ৫ পূর্বশর্ত:

ভারতের দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধভাবে দখলে রাখা জম্মু ও কাশ্মীর বিরোধসহ ভারতের সাথে বিদ্যমান সব বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ‘অর্থপূর্ণ সংলাপ’ আবার শুরুর জন্য পাঁচটি পূর্বশর্ত দিয়েছে পাকিস্তান।

ভারতীয় সাংবাদিক করন থাপারকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তাবিষযক বিশেষ সহকারী ড. মুঈদ ইউসুফ বলেন, পাকিস্তান চায় ভারতের সাথে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে এবং সংলাপের মাধ্যমে সব সমস্যা নিরসন করতে।

অবশ্য তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই প্রতিবেশীর মধ্যে যেকোনো অর্থপূর্ণ সংলাপের আগে ভারতকে কাশ্মীরের সব রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে হবে, অমানবিক অবরোধ ও বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করতে হবে, অকাশ্মীরিদের বিরোধপূর্ণ এলাকায় বসবাসের সুযোগ দিতে করা ডোমিসাইল আইন বাতিল করতে হবে, মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করতে হবে এবং পাকিস্তানে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের অবসান ঘটাতে হবে।

নয়াদিল্লী ২০১৯ সালের ৫ মে কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ ও ৩৫ক রদ করে। পাকিস্তান এই পদক্ষেপের নিন্দা করে একে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে স্থিতিবস্থা বজায় রাখার চুক্তির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী পাকিস্তানে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়েও কথা বলেন।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের কাছে প্রমাণ আছে যে পেশোয়ারে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে এপিএস সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছিল ‘র’।

এসএপিএম আরো বলেন, পাকিস্তানের প্রতিবেশী দেশটি গোয়াদার বন্দরের কাছে পাঁচতারা হোটেলে সন্ত্রাসী হামলা, করাচির চীনা কনস্যুলেটে হামলা, করাচি স্টক এক্সেচেঞ্জে হামলায় মদত দিয়েছিল।

তিনি বলেন, আফগানিস্তানে টিটিপির গ্রুপগুলোর মধ্যকার মতবিরোধ মেটাতে ভারত এক মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।

মইদ আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান চান শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশীত্ব। কিন্তু ভারতের সম্প্রসারণবাদ ও হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি শান্তির পথে প্রধান বাধা।

পররাষ্ট্র দফতর থেকে ইস্যু করা এক বিবৃতিতে তিনি আবারো প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, ভারত যদি এক পা এগিয়ে আসে, তবে পাকিস্তান দু পা এগুবে।

ড. ইউসুফ জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তানের কাছে কাশ্মীর বিরোধে প্রধান পক্ষ হলো কাশ্মীরীরা এবং সংলাপের মাধ্যমে তাদের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হবে।

পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে বৈপরীত্যের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী বলেন, পাকিস্তান সরকার পাকিস্তান ও এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য নিবেদিতপ্রাণ।

তিনি বলেন, ভারত তার সম্প্রসারণবাদী নীতির কারণে প্রতিবেশীদের মধ্যে আস্থা হারিয়েছে। আর পাকিস্তান প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে ড. ইউসুফ বলেন, আদালতে মুলতবি হয়ে থাকা সব মামলার তদন্তের ব্যবস্থা করেছে পাকিস্তান। কিন্তু ভারত সব তদন্ত স্থগিত করে রেখেছে।

সন্ত্রাসবাদের প্রতি ভারতের সমর্থন

পাকিস্তানে ভারতের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের প্রতি আগ্রাসী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে এসএপিএম জানান, ভারতীয় দূতাবাসের তহবিলের মাধ্যমে র-এর অফিসার টিটিপি নেতৃত্বকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার দিয়েছেন।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসী নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগকারী অফিসারদের নাম ও পদবি পাকিস্তান জানে। ভারতীয় তৎপরতার কথা শিগগিরই বিশ্ববাসীকে জানানো হবে। তিনি বলেন, পাকিস্তানবিরোধী সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে অর্থায়ন ও টিটিপির সাথে তাদের একীভূত হওয়াকে সমর্থন করতে ভারত অর্থায়ন করেছে।

কাশ্মীরীরা প্রধান পক্ষ

গিলগিট-বাল্টিস্তান ও কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের সর্বশেষ প্রপাগান্ডার অসারতা তুলে ধরে ড. ইউসুফ বলেন, জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের আলোকে পাকিস্তান কাজ করছে। পাকিস্তান ৮০ লাখের বেশি কাশ্মীরীর আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। সূত্র- এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

আরও পড়ুন: মমতার সাম্রাজ্যে বড় বিপদ!

পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এইরকম আরো খবর দেখুন

© All rights reserved © 2020- SottoSamachar.Com || মানুষের সাথে, মানুষের পাশে।

Search Results

Web result with site link

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102