মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ:
রাজধানীতে প্রেমিকের সঙ্গে অভিমানে প্রেমিকার আত্মহত্যা পাকিস্তানী টেলি-ড্রামায় মাতোয়ারা ভারতের দর্শকরা রোহিঙ্গাদের জোর করে ভাসানচরে পাঠানো হচ্ছে: অ্যামনেস্টি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নতুন ১৬ জন করোনায় আক্রান্ত; জেলায় শনাক্ত সংখ্যা ২৬শ ছাড়ালো মফস্বল সাংবাদিকদের খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই: আহসানুল হক আসিফ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আল-মদিনা ওষুধ কোম্পানির উদ্যোগে বিরামপুর আবারও ফ্রী মেডিক্যাল ক্যাম্প ইতালির পম্পেই নগরীর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দু’জন ব্যক্তির দেহাবশেষ আবিষ্কার সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান গ্যাস লাইন লিকেজের মেরামত করতে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা সুচির সাথে বরিস জনসনের আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্বেগ

ভূত কী সত্যিই আছে ?

আশিকুল ইসলাম অয়ন
  • আপডেট সময় রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২০

সবে মাত্র এস.এস.সি পরীক্ষা শেষ হল। তাই হাতে অফুরন্ত সময়। কিভাবে এই দীর্ঘ সময় কাঁটাব তা ভেবেই পাচ্ছি না। বই পড়ছি, টিভি দেখছি, গেইমও খেলছি কিন্তু তবুও যেন সারাটা দিন যাই না। হঠাৎ একদিন আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম যে, আমরা একটি রেস্টুরেন্টে যাব।

যেই কথা, সেই কাজ। একদিন বিকালে আমরা সবাই একত্রিত হলাম। তারপর একটা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে গেলাম সবাই মিলে। আমরা সব মিলে ছয় জন ছিলাম। রেস্টুরেন্টে যেয়ে একটা বড় জায়গা আমরা দখল করে ফেললাম। একজন ওয়েটার এসে আমাদেরকে মেনু কার্ড দিয়ে গেল। আমরা ছয় জন মিলে অনেক চিন্তা করে কিছু খাবারের অর্ডার দিলাম। খাবার আসতে প্রায় বিশ মিনিট লেগে গেল। আমরা সবাই মিলে কথা বলতে বলতে খাবার শেষ করলাম। এরপর আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যে, আমরা সবাই মিলে এক কাপ করে কফি খাব। তাই রাজু গিয়ে কফির অর্ডার দিয়ে আসল।

কফি আসার কিছুক্ষণের মধ্যে বৃষ্টি শুরু হল। আমরা কফি শেষ করবার পর দেখলাম যে বৃষ্টির বেগ বেরেই চলেছে। তখনি কারেন্ট চলে গেল। রেস্টুরেন্টটা অন্ধকারে ছেয়ে গেল। কিছুক্ষণ পার হবার পরেও জেনারেটর চালু হল না। ওয়েটার যখন কফির কাপ গুলো নিতে আসল আমি তাকে জেনারেটর কথা বলতেই সে আমাদের বলল যে কিছুদিন হয়েছে তাদের জেনারেটর নষ্ট হয়ে গেছে। এই বলে সে চলে গেল। আমরা কিছুক্ষণ বসে বসে কথা বললাম।

আসতে আসতে রেস্টুরেন্ট খালি হতে শুরু হল। আমরা তখন ওয়েটারকে ডেকে বিল দিয়ে দিলাম। আর তাকে জিজ্ঞাস করলাম যে রেস্টুরেন্ট আর কতক্ষণ খোলা থাকবে। সে জানাল যে রাত দশটা পর্যন্ত। আর এখন বাজে মাত্র সন্ধ্যা সাতটা। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমরা বৃষ্টি কমলেই যাব। রেস্টুরেন্টে একটা ভৌতিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
পলাশ তখন বলল,
“ চারপাশ যখন ভৌতিক হয়ে উঠেছে তখন একটা ভৌতিক গল্প বললে কেমন হয়?”
আমরা তখন পলাশের কথায় রাজি হলাম। এই রকম একটা পরিবেশে ভৌতিক গল্প শোনার মজায় আলাদা। পলাশ তখন তার গল্প বলা শুরু করল,
“ আমি তখন সবে মাত্র ক্লাস সেভেনে উঠেছি। তখন আমি আমাদের গ্রামের এক স্কুলে পরতাম। ত একদিন হল কি আমাদের বাসায় আমার বড় বোন আর তার সাথে দোলাভাইও আসল। তারা আসল বিকাল বেলায়।
তারা আসার উপলক্ষে আব্বা আমাকে বাজার থেকে মাছ আর মুরগি নিয়ে আসতে বলল। আব্বার শরীরটা ভাল ছিল না বলে আমি একাই বাজারে গেলাম। আর আমার আর কোন ভাইও নেই। তোরা জানসই আমরা তিন বোন এক ভাই।
আমাদের গ্রামের বাজারটা আমাদের বাসা থেকে একটু দূরে ছিল। একটা বড় ধান ক্ষেত পার হয়ে বাজারে যেতে হয়। বাজার করে যখন বাসার উদ্দেশ্য রওনা হলাম তখন মাগরিবের আজান পরছে। আমি যখন বড় ধান ক্ষেতের মধ্যে প্রবেশ করলাম তখন সূর্যাস্ত সম্পন্ন হয়ে গেছে। শুধু  চাদের জন্য চারপাশে একটা আবছা আলো আছে। এই আলো অন্ধকার দূর না করে মনে হল যেন আর ঘন করে দিল।
তখনি হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হল। ঠিক আজকের মত। আমি কাক ভেজা হয়ে ধান ক্ষেতের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম। বৃষ্টি পানি খুব ঠান্ডা ছিল। মনে হচ্ছিল যে শরীরে বরফ পড়ছে।
তখনি হঠাৎ দূরে কিছু একটা দেখে আমি হাঁটা বন্ধ করলাম।”
এই বলে পলাশ তার গল্প বলা বন্ধ করে দিল। আকিব বলল,
“ কীরে বাকিটা বল।”
পলাশ বলল,
“ বলব, কিন্তু আগে এক কাপ করে কফি হয়ে যাক।”
“ আবার কফি?”
“ হ্যাঁ।”
তুহিন বলল,
“ আচ্ছা কফি আমি যেয়ে অর্ডার দিয়ে আসছি।”
তুহিন তখন একজন ওয়েটারের কাছে যেয়ে কফির অর্ডার দিয়ে আসল। বাহিরে তখন বৃষ্টির বেগ একটু কমেছে।
দশ মিনিটের মধ্যে কফি এসেগেল। পঙ্কজ তখন বলল,
“ কফিত এসে গেছে এখন পলাশ এর গল্প শুরু হক।”
পলাশ তখন তার গল্প বলা আবার শুরু করল।
“ আমি যে কোথায় ছিলাম ? হ্যাঁ, ত দূরে একটা কিছু দেখে আমি দাঁড়িয়ে গেলাম। কিছুটা দূরে বলে আমি দেখতে পাচ্ছিলাম না। কিন্তু দেখতে অনেকটা মানুষের মত। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর আমি উই বস্তুটির দিকে যেতে লাগলাম।
কিছু দূর যাবার পর আমি আবার ধমকে দাঁড়ালাম। জিনিসটা দেখে আমার শরীল জমে গেল। আমার মনে হচ্ছিল আমি কোন স্বপ্ন দেখছি। আমার মাথা ঘোরাচ্ছিল।
সামনে কিছু দূর যেই জিনিসটা দাঁড়িয়ে আছে সেটা অনেক লম্বা ছিল। মোটা মোটি বিশ ফুটের মত হবে। মুখটা ভাল করে দেখা যাচ্ছিল না। সেই বস্তুটার পুরো শরীরে বিভিন্ন ক্ষতের চিহৃ। আর, তাছাড়া সেই বস্তুটার শরীর থেকে এক ধরনের বিচ্ছির গন্ধ বের হচ্ছিল। আমি কিছুক্ষণ সেখানেই দাঁড়িয়ে সেই জিনিসটার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম। তখনি হঠাৎ আমার যেন কি হল, আমি নিজে সেই জিনিসটার দিকে এগিয়ে যেতে লাগলাম। যখন সেই জিনিসটা যেখানে ছিল সেখানে গেলাম তখন দেখলাম সেখানে সেই জিনিসটা নেই।
তখনই যেন আমার ঘুর ভেঙ্গে গেল। আমি দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে বাসায় গেলাম। আমার জন্য বাসার বাহিরে আমার বড় বোন ছাতা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। আমাকে এই ভাবে দৌঁড়াতে দেখে আমার বোন আমার কাছে আসল।
বোনের কাছে যেয়েই আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম। যখন জ্ঞান ফিরল তখন গভীর রাত। তারপরেও দেখলাম যে আমার চারপাশে বাসার সবাই দাঁড়িয়ে আছে। তাদেরকে আমি সব খুলে বললাম। সবাই গ্রামের মানুষ তাই সবাই সহজেই আমার কথা বিশ^াস করল। সবাই বলতে লাগল যে আমি আমার ভাগ্যের জন্য বেঁচে গেছি।
আর বাজারের বেগ আমি সেই ধান ক্ষেতেই ফেলে এসেছিলাম। তাই রাত্রে সবাইকে শুধু ডিম খেতে হল।”
পলাশের গল্প শেষ হল। রাজু বলল,
“ সেইটা কি ভ‚ত ছিল নাকি।”
পলাশ বলল,
“ আরে না।”
আমি বললাম,
“ তাহলে কি ছিল সেইটা?”
পলাশ বলল,
“ দাঁড়া তুদেরকে বোঝায়।
আসলে সেদিন খুব বৃষ্টি হচ্ছিল। আর আমি বৃষ্টিতে ভিজছিলাম। তাই এমনিতে আমার শরীর ঠান্ডায় ভুগছিল। আর আমি যখন ধান ক্ষেতে পৌঁছালাম তখন সেখানে আমার ভেতর ভয়ও কাজ করছিল। আর সেই থেকে আমার ব্রেইন সেই রকম একটি জিনিস বানিয়ে ফেলল। মানে অনেকটা ভূতের মত। এক কথায় এক হেলোসিনেশন বলে।
আর যদি সেইটা ভূত হয় তাহলে সেইটা আমি যাওয়াতে চলে গেল কেন? আসলে সেখানে কিছু ছিলই না। তাই কিছু দেখতেই পাই নি।”
পঙ্কজ তখন বলল,
“ এইটা কোন ভূতের গল্প হল না কি?”
পলাশ বলল,
“ আমি কি তোদের ভূতের গল্প বলেছি নাকি? আমি তো তোদের শুধু বোঝাতে চেয়েছি যে ভুত বলতে কিছু নেই।”
কিছুক্ষণ পর বৃষ্টির বেগ কমে গেলে আমরা কফির বিল দিয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে গেলাম। সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমি বাসার দিকে রওনা দিলাম আর ভাবতে লাগলাম যে ভুত কি সত্যিই আছে ?

পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এইরকম আরো খবর দেখুন

© All rights reserved © 2020- SottoSamachar.Com || মানুষের সাথে, মানুষের পাশে।

Search Results

Web result with site link

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102