মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৮:২৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ:
রাজধানীতে প্রেমিকের সঙ্গে অভিমানে প্রেমিকার আত্মহত্যা পাকিস্তানী টেলি-ড্রামায় মাতোয়ারা ভারতের দর্শকরা রোহিঙ্গাদের জোর করে ভাসানচরে পাঠানো হচ্ছে: অ্যামনেস্টি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নতুন ১৬ জন করোনায় আক্রান্ত; জেলায় শনাক্ত সংখ্যা ২৬শ ছাড়ালো মফস্বল সাংবাদিকদের খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই: আহসানুল হক আসিফ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আল-মদিনা ওষুধ কোম্পানির উদ্যোগে বিরামপুর আবারও ফ্রী মেডিক্যাল ক্যাম্প ইতালির পম্পেই নগরীর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দু’জন ব্যক্তির দেহাবশেষ আবিষ্কার সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান গ্যাস লাইন লিকেজের মেরামত করতে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা সুচির সাথে বরিস জনসনের আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্বেগ

শান্তি চুক্তির পরই জাতীয় পতাকা হাতে রাজধানী বাকুতে আজারবাইজানের নাগরিকরা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ১১ নভেম্বর, ২০২০
শান্তি চুক্তির পরই জাতীয়
ছবি: জাতীয় পতাকা হাতে রাজধানী বাকুতে আজারবাইজানের নাগরিকরা
শান্তি চুক্তির পরই জাতীয় পতাকা হাতে রাজধানী বাকুতে আজারবাইজানের নাগরিকরা। নার্গোনো-কারাবাখ সংঘাত নিরসনে আর্মেনিয়ার সঙ্গে শান্তি চুক্তি ঘোষণার পরই জাতীয় পতাকা হাতে রাজধানী বাকুতে জড়ো হয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন আজারবাইজানের নাগরিকরা।
ছয় সপ্তাহ ধরে নার্গোনো কারাবাখ নিয়ে আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার সংকট সমাধানে শান্তি চুক্তিতে একমত হয় ইয়েরেভান এবং বাকু। এতে মধ্যস্থতা করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। চুক্তি সইয়ের দিন থেকেই শান্তি চুক্তি কার্যকরের কথা রয়েছে।
তবে রুশ মধ্যেস্থতায় নার্গোনো-কারাবাখ শান্তি চুক্তিকে ‘অবর্ণনীয় কষ্টের’ বলে অভিহিত করেছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনয়ান। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ এক টুইট বার্তায় একে ঐতিহাসিক দিন আখ্যা দিয়েছেন। বলেন, নার্গোনো-কারাবাখ নিয়ে আর্মেনিয়া আজারবাইজানের সংঘাত নিরসন হচ্ছে।
নিকোলের ঘোষণায় আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে পোস্টের দেয়ার ২০ মিনিটের মধ্যেই ইয়েরেভানের পার্লামেন্টের সামনে জড়ো হতে থাকেন সাধারণ মানুষ। এক পর্যায়ে পার্লামেন্টে প্রবেশ করেন তারা। দাবি জানান, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের।
প্রতিবেশি জর্জিয়ার তিবিলিসি থেকে আল জাজিজার প্রতিনিধি জানান, যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণায় ঘৃণা এবং হতাশা ব্যক্ত করেছেন আর্মেনিয়ার সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার নিকোল বলেন, নিজ দেশের সেনাবাহিনীর চাপে তিনি শান্তি চুক্তিতে একমত হয়েছেন। নার্গোনো কাবারাখে সবধরনের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সেখানকার পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ বলেও জানান তিনি।
আর্মেনিয়ার কাছ থেকে নার্গোনো কারাবাখের দ্বিতীয় বৃহত্তর শহর শুশা পুনরুদ্ধার এবং আজারি বাহিনী একটি রুশ বিমান দুর্ঘটনাবশত ভূপাতিত করার পরই শান্তি চুক্তির ঘোষণা এলো।
চুক্তি অনুযায়ী নার্গোনো কারাবাখ ফ্রন্ট লাইন, নার্গোনো-কারাবাখ এবং এ আর্মেনিয়ার মধ্যকার করিডোরে শান্তিরক্ষী মোতায়েন করবে রাশিয়া।
শান্তি চুক্তি ঘোষণার পরপরই বাকুর রাস্তায় নেমে আসেন আজারবাইজানের সাধারণ মানুষ। জাতীয় পতাকা উড়িয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন তারা। তবে রাশিয়ার মধ্যস্থতায় শান্তি চুক্তি করায় আপত্তি জানিয়েছেন অনেকে।
আলিয়েভ জানান, শান্তি রক্ষায় তুরস্কও অংশ নেবে। রাশিয়া-তুরস্কের সেনারা যৌথ ভাবে টহল কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তুর্কি সেনারা শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করবে বলেও জানান আলিয়েভ। তবে রাশিয়া জানিয়েছে, নার্গোনো কারাবাখে শান্তি রক্ষায় তুর্কি সেনা মোতায়েনের বিষয়টি চুক্তিতে নেই।
ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা শান্তি চুক্তির বিভিন্ন ধারা পর্যবেক্ষণ করে দেখছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে আর্মেনিয়ার স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া উচিৎ বলে জানায় ম্যাক্রোঁ প্রশাসন। ওই অঞ্চলে উস্কানি বন্ধের জন্য তুরস্কে বলেছে প্যারিস। ভবিষ্যতে কোনো চুক্তিতে আঙ্কারা যেনো বাগড়া না দেয় সে বিষয়েও সতর্ক করা হয়।
নার্গোনা কারাবাখের উদ্দেশে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৯৬০ রুশ সেনা দেশ ছেড়েছে। তাদেরকে বহন করছে ১২টি সামরিক বিমান। শান্তিরক্ষীদের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র রয়েছে বিমানে। চুক্তি অনুযায়ী রুশ সেনারা নার্গোনো কারাবাখ অঞ্চলে থাকবে।
মঙ্গলবার সই হওয়া চুক্তিতে বলা হয়, নার্গোনো কারাবাখের যে সব অঞ্চল আজানবাইনজান পুনরুদ্ধার করেছে সেগুলো তাদের অধীনে থাকবে। আরো কয়েকটি এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারে রাজি হয় আর্মেনিয়া। একে বিজয় আখ্যা দিয়েছে আজারবাইজান।
২৭ সেপ্টেম্বর আজারবাইজানের সাধারণ মানুষের বসতি এবং সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় আর্মেনিয়া। শুরু হয় পাল্টাপাল্টি আক্রমণ। দু’পেক্ষর যুদ্ধে ১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়। আহত হয়ে অনেকে। সংঘাত নিরসনে রাশিয়ার মধ্যেস্থতায় দুটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। কিন্তু সেগুলো কার্যকরের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেস্তে যায়।
নার্গোনো-কারাবাখ আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের ভূখণ্ড। সোভিয়েত ইউনিয়েন ভেঙে যাওয়ার পর ১৯৯১ সালে আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনীর সহায়তায় অঞ্চলটি দখল করে নেয় আর্মেনিয়ো বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। সংকট সমাধানে রাশিয়া, ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে মিনসক গ্রুপ গঠন করা হয়। ১৯৯৪ সালে সই একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি। এ ছাড়া স্থানীয় কোনো সমাধাণ দিতে পারেনি মিনস্ক গ্রুপ।
সংঘাত শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছে। আজারবাইজানের আত্মরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাকুকে সমর্থন দিচ্ছে তুরস্ক।

পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

One thought on "শান্তি চুক্তির পরই জাতীয় পতাকা হাতে রাজধানী বাকুতে আজারবাইজানের নাগরিকরা"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এইরকম আরো খবর দেখুন

© All rights reserved © 2020- SottoSamachar.Com || মানুষের সাথে, মানুষের পাশে।

Search Results

Web result with site link

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102