রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১২:৪৫ অপরাহ্ন

সিরিয়ায় ৬ শতাধিক আইএস সদস্যকে মুক্তি দিলো কুর্দিরা

অনলাইন ডেস্ক ।।
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০
সিরিয়ায় ৬ শতাধিক আইএস
ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ায় ৬ শতাধিক আইএস সদস্যকে মুক্তি দিলো কুর্দিরা:

মার্কিন সরকার সমর্থিত ও কুর্দি নিয়ন্ত্রিত কথিত সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসের সদস্যরা (এসডিএফ) ৬৩১ আইএস সদস্যকে মুক্তি দিয়েছে। আইএসকে সহযোগিতার সন্দেহে এসব ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল।

এসডিএফ গেরিলারা কামিশলি শহরের আলাইয়া বন্দিশালা থেকে গত বৃহস্পতিবার ৬৩১ জন বন্দীকে মুক্তি দেয়। সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক কাউন্সিলের কো-চেয়ারম্যান আমিনা ওমর কামিশলি শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, মুক্তি দেয়া সবাই সিরিয়ার নাগরিক।

তিনি বলেন, এসব ব্যক্তি তাদের সাজার অর্ধেক পূরণ করেছে এবং তারা কোনো মানুষ হত্যায় জড়িত নয় বলে প্রমাণিত হয়েছে। কামিশলি শহরটি রাজধানী দামেস্ক থেকে ৬৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।

সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে এসব ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল এবং সম্প্রতি ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার আওতায় তাদেরকে মুক্তি দেয়া হলো।

এসডিএফ গেরিলাদের হাতে হাজার হাজার ব্যক্তি আটক রয়েছে যারা আইএস এবং অন্য সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সহযোগী হিসেবে কাজ করছিল বলে সন্দেহ করা হয়।

এসব বন্দীর বেশির ভাগই সিরিয়া ও ইরাকের নাগরিক। এ ছাড়া এসডিএফের হাতে অনেক বিদেশী নাগরিকও আটক রয়েছে। তবে তাদের নিজ নিজ দেশ ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়নি।

এই দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্ততায় ইয়েমেনে পাঁচ বছর ধরে যুদ্ধরত দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে হাজারেরও বেশি বন্দী বিনিময় সম্পন্ন করেছে। ইরান সমর্থিত হাউছি বিদ্রোহী ও সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যকার দুই দিনব্যাপী এই বন্দী বিনিময় চুক্তি গত শুক্রবার শেষ হয়।

সৌদি সরকার এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৬৭১ জন হাউছি বন্দীকে মুক্তি দিয়ে রাজধানী সানায় পাঠিয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যকার স্বাক্ষরিত ‘স্টকহোম চুক্তি’র অংশ হিসেবে দুই দিনব্যাপী এই বন্দী বিনিময় চুক্তি সম্পন্ন হলো।

বন্দী বিনিময়ের তত্ত্বাবধানকারী রেড ক্রসের আন্তর্জাতিক কমিটি বলছে, ‘বন্দীদের নিয়ে এগারোটি পৃথক বিমান ইয়েমেনের সানা, সেইয়ুন, আদেন এবং সৌদি আরবের রিয়াদ ও আবায় পৌঁছেছে।’

২০১৮ সালে জাতিসঙ্ঘের সহায়তায় সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। গেল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্ততায় ইয়েমেন সরকার ও হাউছি বিদ্রোহীরা সুইজারল্যান্ডে এক আলোচনায় বন্দী বিনিময়ের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করেন। পরে সেই অনুসারে হাজারেরও বেশি বন্দীকে মুক্তি দেয় যুদ্ধরত এই দুই পক্ষ।

হাউছি বিদ্রোহীদের এক কর্মকর্তা  আবদেল কাদের আল মরতাদা বলেন, ‘আমরা আরো একটি বন্দী বিনিময়ের জন্য অপেক্ষা করছি। আশা করি, চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র খুব দ্রুতই আমাদের উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসবে।’

কয়েদিদের এই মুক্তিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতিসঙ্ঘের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্তোনিও গুতেরেজ। তিনি বলেন, ‘স্টোকহোম চুক্তির বাস্তবায়নের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।’

গুতেরেজ এক বিবৃতিতে আরো বলেন, ‘যৌথভাবে আপনাদের উচিত যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা। দেশের মানুষের অর্থনৈতিক ও মানবিক দিক বিবেচনা করে দীর্ঘদিনের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ইতি ঘটানো। দুই পক্ষের মধ্যকার দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে প্রায় এক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট পরিবেশকে বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ ‘মানবিক অবস্থা’ বলে ঘোষণা করেছে জাতিসঙ্ঘ। সূত্র – আলজাজিরা।

আরও পড়ুন: ইরানের ওপর আরোপিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার অবসান

পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এইরকম আরো খবর দেখুন

© All rights reserved © 2020- SottoSamachar.Com || মানুষের সাথে, মানুষের পাশে।

Search Results

Web result with site link

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102