শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৫৯ অপরাহ্ন

৬ দফা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০

১৯৬৫ সালের ৬ই সেপ্টেম্বও ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধ ১৭ দিন ধরে অব্যাহত ছিল। তখন পূর্ব পাকিস্তান সর্ম্পূণরূপে অরক্ষিত ছিল।বিষয়টি পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং বৈষম্যমূলক মনে হয়েছিল। এ সময় ‘ ইসলাম বিপন্ন’,রবীন্দ্রসঙ্গীতকে ‘হিন্দু সংস্কৃতি’ ও নজরুল ইসলাম এর গানে ‘হিন্দুয়ানি’র অভিযোগ তুলে এসবের চর্চা বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ নিজেদের সংস্কৃতি ইতিহাস ঐতিহ্য এবং রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার জন্য স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্ব নতুন ভাবে উপলব্ধি করে। অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রতি মানুষ অধিকমাত্রায় আকৃষ্ট হতে থাকে। যার মধ্যে ৬ দফার গুরুত্বপূর্ণ অন্যতম।

ঐতিহাসিক ৬ দফার পৃবক্তা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পূর্ব বাংলায় জনগণের প্রতি পাকিস্তান রাষ্ট্রের চরম বৈষম্যমূলক আচরণ ও অবহেলা বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম গভীর ও সুস্পষ্ট রূপ লাভ করে ৬ দফার স্বায়ত্তশাসনের দাবিনামায়। ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ই ফেব্রুয়ারি লাহোর অনুষ্ঠিত বিরোধী দলসমূহের এক সম্মেলনে যোগদান করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবর রহমান। সেখানে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অধিকার রক্ষার জন্যে ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন। দফাগুলো হলো:

১. পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাধীনে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার হবে। সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটে নির্বাচন অনুষ্ঠান।

২. কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে মাএ দুটি বিষয় থাকবে, প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মস্ত্রণালয় । অন্যান্য সকল বিষয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে ।

৩. সারাদেশে হয় অবাধে বিনিয়োগযোগ্য দু’ধরনের মুদ্রা,না হয় বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে একই ধরনের মুদ্রা প্রচলন করা।
৪. সকল প্রকার কর ধার্য করার ক্ষমতা থাকবে আঞ্চলিক সরকারের হাতে। আঞ্চলিক সরকারের আদায়কৃত রাজস্বের একটা নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে ।

৫. অঙ্গরাজ্যগুলো নিজেদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার মালিক হবে ,এর নির্ধারিত অংশ তারা কেন্দ্রকে দেবে।

৬. অঙ্গরাজ্যগুলোকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য আধা সামরিক বাহিনী গঠন করার ক্ষমতা দেওয়া ।

গুরুত্ব: ৬ দফা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের কথা তুলে ধরে। আইযুব সরকার একে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মসূচি, হিসেবে আখ্যায়িত করে। এ র্কমসূচি বাঙালির জাতীয় চেতনামূলে বিস্ফোরনণ ঘটায়। এতে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার কতা বলা না হলেও এ ৬ দফা কর্মসূচি বাঙালিদের স্বাধিনতার মন্ত্রে গভীর ভাবে উজ্জীবিত করে। এটি ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। ৬ দফা কর্মসূচি ঘোষণার জন্য পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং পাকিস্তানের এক নম্বর শত্রূ বলে চিহ্নিত করে। পাকিস্তান সরকার ৬ দফা গ্রহণ না করে দমন-পীড়ন শুরু করলে আন্দোলন অনিবার্য হয়ে ওঠে।

পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এইরকম আরো খবর দেখুন

© All rights reserved © 2020- SottoSamachar.Com || মানুষের সাথে, মানুষের পাশে।

Search Results

Web result with site link

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102